অস্ট্রেলিয়া- ২ : তুরস্ক- ০
অস্ট্রেলিয়া- ২ : তুরস্ক- ০
ভ্যাঙ্কুভার: ২০০৬ সাল। তানজানিয়া তখন গৃহযুদ্ধে জ্বলছে। বিদ্রোহ দমনে সরকারের নৃশংস অত্যাচারে রক্তের স্রোত বয়েছে গ্রাম থেকে শহরে। নিরীহ সাধারণ মানুষ প্রাণ বাঁচাতে আশ্রয় নিচ্ছেন শরণার্থী শিবিরে। তেমনই এক শিবিরে জন্ম হয় নেস্টোরি ইরানকুন্ডার। এরপর নোংরা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে শুরু অস্তিত্বের লড়াই। কিন্তু তাতেও বিপদ পিছু ছাড়েনি। শেষমেশ বাবা-মায়ের হাত ধরে জন্মভূমি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন ইরানকুন্ডা। নতুন ঠিকানা অস্ট্রেলিয়ার পারথ। সেখানেই ফুটবলের সঙ্গে পরিচয় ইরানকুন্ডার। অন্ধকার অতীত কাটিয়ে সূর্যোদয়ের আশা জাগে মনে। ক্যাঙারুর দেশের সেই মহানুভবতার কিছুটা হলেও প্রতিদান দিলেন নেস্টোরি। শনিবার তুরস্ককে ২-০ ব্যবধানে হারাল অস্ট্রেলিয়া। দলের প্রথম গোল তাঁরই। অপর লক্ষ্যভেদটি কোনর মেটকাফের। তবে এই জয়ে বড় অবদান রয়েছে সকারু ব্রিগেডের গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচের। অন্তত ৮টি দুরন্ত সেভে দলের পতন রোধ করেন তিনি।
২০০২ বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থানে শেষ করেছিল তুরস্ক। কিন্তু তারপর থেকে মেগা আসরের ছাড়পত্র আদায়ে ব্যর্থ তারা। দীর্ঘ ২৪ বছর পর এবারের কাপ যুদ্ধে ছেঁড়ে ভাগ্যের শিকে। তাই প্রত্যাবর্তন স্মরণীয় করতে শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় তোলে তারা। অন্যপ্রান্তে, অজি কোচ টনি পপোভিচ বেশ কিছুটা ঝুঁকি নিয়েছিলেন প্রথম ম্যাচে। প্রথম একাদশে অভিজ্ঞতাকে সরিয়ে এক সঙ্গে ১০ জন ফুটবলারকে বিশ্বকাপে অভিষেকের দরজা খুলে দিয়েছিলেন তিনি। সকলেই জান লড়িয়ে দেন মাঠে। ২৮ মিনিটে স্রোতের বিপরীতে ঠান্ডা মাথায় লক্ষ্যভেদ করেন ইরানকুন্ডা। এরপর ৭৫ মিনিটে ২৫ গজের দুরন্ত শটে জাল কাঁপান মেটকাফ। বাকি সময়ে গ্লাভস হাতে অনবদ্য প্যাট্রিক বিচ।