Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

যুদ্ধের সময়ে ইজরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্রের হামলায় জখম হয়েছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট

ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধে মৃত্যু হয়েছে শত শত মানুষের। দুই দেশেরই কমবেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

যুদ্ধের সময়ে ইজরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্রের হামলায় জখম হয়েছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট
  • ১৩ জুলাই, ২০২৫ ১৬:০৭
Prefer us on Google

তেহরান, ১৩ জুলাই: ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধে মৃত্যু হয়েছে শত শত মানুষের। দুই দেশেরই কমবেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে ইরানের সেনাপ্রধান, পরমাণু বিজ্ঞানীদের খতম করেছে ইজরায়েলি সেনা। ইরানিয়ান রেভলিউশনারি গার্ড কোরের একাধিক পদস্থ কর্তারও মৃত্যু হয়েছে তেল আভিভের হামলায়। যদিও ইজরায়েল কিংবা আমেরিকা দুই দেশেরই রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে লড়াই চালিয়ে গিয়েছিল তেহরান। শেষমেশ কাতার, ইরাকে আমেরিকার সেনাঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরান হামলা চালালে পরিস্থিতি অন্য দিকে মোড় নেয়। ইরানের এই পদক্ষেপের পরই তড়িঘড়ি ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

Advertisement

এইসবের মাঝেই একটি গুরুত্বপূর্ণ খবর সেই সময়ে প্রকাশ করেনি তেহরান। যা আজ, রবিবার জানা গিয়েছে। জুনের ১৬ তারিখে যখন পশ্চিম এশিয়ার দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ চরমে। সেই দিনই ইজরায়েলি সেনার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় জখম হয়েছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মুসাদ পেজেশকিয়ান। যদিও তাঁর আঘাত গুরুতর ছিল না। পায়ে সামান্য চোট পান তিনি। এই খবর এদিন জানিয়েছে ইরানিয়ান রেভলিউশনারি গার্ড কোরের মদতপুষ্ট সংবাদসংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি। জুনের ১৬ তারিখ তেহরানের পশ্চিম প্রান্তে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। সেই সময়ে সেখানে আছড়ে পড়ে ইজরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র। তাতেই আঘাত পান প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান। ওই সংবাদসংস্থার দাবি, ইজরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে কী রণকৌশল হবে সেই বিষয়েই বৈঠক চলছিল।

প্রেসিডেন্ট ছাড়াও একই সময়ে সেখানে উপস্থিত ছিলেন পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফ, বিচারব্যবস্থার প্রধান মোহসেনি ইজেই সহ একাধিক উচ্চপদস্থ কর্তারা। জানা গিয়েছে, ঠিক যেভাবে হিজবুল্লা প্রধান হাসান নাসরাল্লাহকে বেইরুটে খতম করেছিল ইজরায়েল। সেই একই পদ্ধতিতে ইরানের প্রেসিডেন্টকে নিকেশ করার ছক ছিল তেল আভিভের। সেই কারণেই প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান সহ ইরানের উচ্চপদস্থ কর্তারা যে বিল্ডিংয়ে ছিলেন তার প্রবেশ ও বাহিরের পথে মোট ছ’টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইজরায়েল। সেই সময়ে ওই বিল্ডিংয়ের নীচে ছিলেন প্রেসিডেন্ট সহ ইরানের উচ্চপদস্থ কর্তারা। ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়তেই বিল্ডিংয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কিন্তু তেল আভিভের এই পরিকল্পনার আঁচ করেছিল তেহরান। তাই সমস্ত রকমের নিরাপত্তা ছিল সেখানে। ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া থামতেই বিল্ডিংয়ের সুরক্ষিত এলাকা দিয়ে পালিয়ে যান প্রেসিডেন্ট সহ বাকিরা। ওই সংবাদসংস্থার সূত্রে জানা গিয়েছে, পালিয়ে যাওয়ার সময়েই পায়ে চোট পান প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান। একই সঙ্গে ইরানের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্তাও জখম হন। যদিও কারোর আঘাত গুরুতর ছিল না বলেই জানা গিয়েছে।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ