


নয়াদিল্লি: হরমুজ প্রণালীতে ভারতের দুটি জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠল ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) বিরুদ্ধে। দুটি জাহাজের মধ্যে একটি ভারতের পতাকাবাহী ‘সুপার ট্যাঙ্কার’ বলে জানা যাচ্ছে। সুপার ট্যাঙ্কার বিপুল পরিমাণে তেল পরিবহণে সক্ষম। ইরাক থেকে ২০ লক্ষ ব্যারেল তেল নিয়ে ওই জাহাজটি আসছিল। কিন্তু কেশম ও লারাক দ্বীপের কাছে গানবোট থেকে ওই দুটি জাহাজ লক্ষ্য করে আইআরজিসি গুলি চালায়। তবে, দুটি জাহাজের নাবিক ও কর্মীদের সকলেই সুরক্ষিত রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। গুলি চালানোর পর জাহাজ দুটি আর এগনোর সাহস দেখায়নি। সেগুলি মুখ ঘুরিয়ে পিছিয়ে গিয়েছে বলে জাহাজ চলাচলে নজরদারি সংস্থা ট্যাঙ্কার ট্র্যাকার জানিয়েছে।
আমেরিকার সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ চলাকালীনও ভারতের একাধিক তেলবাহী জাহাজ হরমুজ পেরিয়ে দেশে এসেছে। গত ১৩ এপ্রিল ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফাতহালি জানিয়েছিলেন, ভারতের জাহাজের জন্য হরমুজ সবসময় খোলা থাকবে। তাই আইআরজিসির হঠাত্ এমন পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ দিল্লিও। সূত্রের খবর, ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠানো হয়েছে। ডিরেক্টরেট জেনারেল অব শিপিং ঘটনাপ্রবাহের উপর নজর রাখছেন। কেন্দ্রের একটি সূত্র জানিয়েছে, নাবিকদের নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।যুদ্ধবিরতি নিয়ে কথার খেলাপ করেছে আমেরিকা—এমনই অভিযোগ তুলে শনিবার ফের হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে ইরান।
তেহরানের ঘোষণার পর থেকেই আশঙ্কা বাড়ছিল যে, তেলবাহী জাহাজ চলাচল নিয়ে ফের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এদিন সকাল থেকেই হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়। সব মিলিয়ে ভারতের চারটি ও গ্রিসের দুটি জাহাজ হরমুজ পেরতে পারেনি। সব মিলিয়ে ৩০০টি তেলবাহী জাহাজ আটকে পড়েছে বলে জানা যাচ্ছে।