দুবাই: যুদ্ধের চতুর্থ সপ্তাহে এসে ফের এয়ার স্ট্রাইকের শিকার ইরানের নাতানজ পরমাণু কেন্দ্র। দেশের সবচেয়ে বড় এই ইউরেনিয়াম পরিশোধন কেন্দ্রে শনিবার হামলা চলেছে বলে দাবি তেহরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা মিজানের। তবে এয়ার স্ট্রাইকের ফলে কোনো তেজস্ক্রিয় বিকিরণের খবর নেই। আবার ইদের দিনই ইজরায়েলের জেরুজালেমে আল-আকসা মসজিদের কয়েকশো মিটার দূরে আছড়ে পড়ল ইরানের মিসাইল। এ প্রসঙ্গে ইজরায়েলের বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট, ‘ইদের সময় জেরুজালেমে মুসলিম, খ্রিস্টান ও ইহুদিদের পবিত্রতম স্থানগুলো থেকে মাত্র কয়েকশ মিটার দূরে একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এটাই মোল্লাদের তথাকথিত ‘ধর্মীয়’ শাসনের আসল চেহারা।’
হামলা ও পালটা হামলার পাশাপাশি ইরান ও ইজরায়েলের পারস্পরিক হুমকির ধারাও অব্যাহত। নেতানিয়াহু সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজরায়েল কাৎজের হুঁশিয়ারি, ‘ইরানের উপর আরও ভয়াবহ হামলা এখন সময়ের অপেক্ষামাত্র। আমেরিকার সঙ্গে যৌথভাবে সেই হামলা হবে।’ তেল আভিভের কাছে একটি ফাঁকা কিন্ডারগার্টেন ভবনে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের অংশ ভেঙে পড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই এক্স হ্যান্ডলে তেহরানের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন তিনি। হামলার মুখে পড়া কিন্ডারগার্টেন ভবনটির ছবি পোস্ট করেছেন ইজরায়েলি সেনার মুখপাত্র নাদাভ শোশানি। ছেড়ে কথা বলার পাত্র নয় তেহরানও। ইজরায়েলের এই হুমকির ঠিক আগে সুর চড়াতে দেখা যায় ইরানের শীর্ষ সেনা মুখপাত্র জেনারেল আব্দুল ফজল শেকারচিকে। তাঁর হুংকার, গোটা বিশ্বে ইরানের শত্রু দেশগুলির কোনো পার্ক, বিনোদনস্থল বা পর্যটন কেন্দ্রই আর নিরাপদ থাকবে না। আশঙ্কা করা হচ্ছে, পশ্চিম এশিয়ার গণ্ডি ছাড়িয়ে এবার বিশ্বের অন্যত্রও সম্ভবত হামলার পরিকল্পনা ইরানের।
নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই এখনও প্রকাশ্যে আসেননি। জখম হওয়া নিয়ে জল্পনার মধ্যেই ফের তাঁর লিখিত বিবৃতি সম্প্রচার করল ইরানের সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল। নতুন বার্তায় ইরান সেনার হার না মানা দৃঢ়চেতা সংকল্পের প্রশংসা করেছেন মোজতবা। এরই মধ্যে তেহরান থেকে ২২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত নাতানজ পরমাণু কেন্দ্রে ফের এয়ার স্ট্রাইক হয়েছে। যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহেও সেখানে হামলা চলেছিল। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বেশ কয়েকটি বহুতল। গত বছর জুন মাসে ১২ দিনের সংঘাতেও আক্রান্ত হয়েছিল এই পরমাণু কেন্দ্রটি। শনিবার আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, নতুন করে হামলার খবর তাদের কাছে এসেছে। তবে তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা বৃদ্ধির কোনো প্রমাণ মেলেনি।