তেল আভিভ ও তেহরান, ১৯ জুন: ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে হামলা ও পাল্টা হামলা চলছেই। দুই দেশই যুদ্ধবিরতিতে যেতে রাজি নয়। যদিও গত কয়েকদিনের তুলনায় তেহরান হামলার ঝাঁঝ বাড়িয়ে দিয়েছে। ইজরায়েলও পিছিয়ে নেই। পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইজরায়েলি সেনা। আজ, বৃহস্পতিবার সকালেই ইজরায়েলের সবচেয়ে বড় হাসপাতালে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তেহরান। যার ফলে বহু লোকের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। গতকাল, বুধবার গভীর রাত থেকেই ইজরায়েলের তেল আভিভ, রমত গান, হলন ও বীরশীবাতে হামলা চালিয়েছে ইরান। যার ফলে জখম হয়েছেন বহু ইজরায়েলি। অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এর মাঝেই আমেরিকার পদক্ষেপে চিন্তিত আন্তর্জাতিক মহল। সূত্রের খবর, ইরানের উপর হামলা চালাতে গোপনে নিজের আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হামলার দিনক্ষণ ঘোষণা করেনি ওয়াশিংটন। যদিও প্রকাশ্যে গতকাল, বুধবার ট্রাম্প জানান, ‘আমি হামলা চালানোর নির্দেশ দিতেও পারি আবার নাও পারি। তবে আগামী সপ্তাহে বড় কিছু ঘটবে। ঠিক আগামী সপ্তাহ নয়, তার আগেও কিছু ঘটতে পারে। আমরা কোনও যুদ্ধবিরতিতে যেতে চাইনা, শুধুই যুদ্ধে জয়ের কথাই ভাবছি।’ এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট, ট্রাম্প, ইরানে হামলা চালানোর বিষয়ে গ্রিন সিগন্যাল দিয়েই দিয়েছেন। সেই কারণেই সৌদি আরবে পৌঁছে গিয়েছে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান। এমনকী সৌদির আকাশে চক্কর কাটছে আমেরিকার একাধিক অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান। সঙ্গে পারস্য উপসাগরে মোতায়েন করা হয়েছে মার্কিন রণতরী। একটি সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, ইজরায়েলের এয়ার ডিফেন্সের রসদ কমে আসছে। আর মাত্র ১০-১২দিন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র রুখতে পারবে তেল আভিভ। সেই সংবাদ পেতেই বোধহয় তেহরান হামলার তীব্রতা বাড়িয়ে দিয়েছে। হাইপারসনিক মিসাইল ‘ফাহতা-১’ তেল আভিভের দিকে ছুড়ছে ইরান। সূত্রের খবর, ইজরায়েলের উপর আরও বড়সড় হামলা চালাতে ইরানের সেনা ব্যবহার করতে চলেছে অত্যাধুনিক মারণঅস্ত্র ‘সেজ্জিল’ মিসাইল। যা রোখা ইজরায়েলি সেনার পক্ষে প্রায় অসম্ভব। সেই কারণেই ইজরায়েলের পাশে দাঁড়াতে চলেছে আমেরিকা। মত ওয়াকিবহল মহলের।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর সূত্রে খবর, যে কোনও মুহূর্তে ইরানে হানা দিতে পারে বি-৫২ বোমারু বিমান। প্রয়োজনে বি-২ বোমারু বিমানও ইরানে হামলা চালাতে পারে। আপাতত সেটি স্ট্যান্ড বাই মোডে রয়েছে। এই বি-২ বোমারু বিমানটি বহন করতে পারে ৩০ হাজার পাউন্ডের বোমা যা বাঙ্কার ধ্বংস করে। তবে আমেরিকার টার্গেট রয়েছে ইরানের ফারদোয় পাহাড়ের ভিতরে লুকিয়ে রাখা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র ও পরমাণু কেন্দ্র। সেটি ধ্বংস করার মতো অস্ত্র রয়েছে ওয়াশিংটনের কাছেই। যেটি হল জিবিইউ-৫৭। এটি অত্যাধুনিক বোমা। যার নিক্ষেপেই ধ্বংস হয়ে যেতে পারে ফারদোয় থাকা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র ও পরমাণু কেন্দ্র। সূত্রের খবর, যুদ্ধবিমানে জ্বালানি ভরার কেন্দ্র রাখা হয়েছে ইংল্যান্ড, গ্রিস, স্পেন ও জার্মানিতে। সেখান থেকেই মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলি প্রয়োজনে জ্বালানি ভরতে পারে। আরব সাগর ও ভূমধ্যসাগরের পূর্ব ভাগে নৌসেনার রণতরী মোতায়েন করে রেখেছে আমেরিকা। অর্থাৎ ইরানে, তেল আভিভের উপর হামলার তীব্রতা বাড়ালেই আমেরিকা সেই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে। যার ফলে পশ্চিম এশিয়া তথা মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হবে অস্থির পরিস্থিতি।
আমেরিকা, তেহরানকে বারবার পরমাণু চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে বলছে, আত্মসমপর্ণের নির্দেশ দিচ্ছে। যদিও এতকিছুর মধ্যেই ওয়াশিংটনকে পাত্তা দিচ্ছে না তেহরান। গতকাল, বুধবারই এই বিষয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই জানিয়েই দিয়েছেন, ‘আত্মসমর্পণ ইরানীয়দের ধাতে নেই। আমেরিকা এই সংঘাতে নাক গলানোর বিন্দুমাত্র চেষ্টা করলে নিজের সর্বনাশ নিজেই ডেকে আনবে। অপূরণীয় ক্ষতি হবে তাদের।’ হুমকি পাল্টা হুমকি। হামলা পাল্টা হামলায় বিপর্যস্ত তেল আভিভ ও তেহরান। এর শেষ কোথায় তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।