তেহরান, ১১ জানুয়ারি: পশ্চিম এশিয়ায় পরিস্থিতি ফের উত্তাল। ইরানে সরকার বিরোধী আন্দোলন ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। জায়গায় জায়গায় বিক্ষোভ, অগ্নিকাণ্ড, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করার অভিযোগ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে। কঠোরভাবে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে রাস্তায় পুলিশ ও সেনা নামিয়েছে আয়াতুল্লা আলি খামেনেই সরকার। তবে তাতে ভয় পাচ্ছেন না কেউই। মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব, মুদ্রাস্ফীতির মতো জ্বলন্ত বিষয়গুলি নিয়ে আন্দোলন চলছে।
গতকাল, শনিবারই বিক্ষোভকারীদের চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান সরকার। বিক্ষোভকারীদের ‘ঈশ্বরের শত্রু’ বলে মন্তব্য করে ইরান। পশ্চিম এশিয়ার এই দেশে ঈশ্বর বিরোধী অবস্থানের অর্থ একটাই- মৃত্যুদণ্ড। এটাই জানানো হয়েছে খামেনেই সরকারের তরফে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এবার আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে যে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে তার ইঙ্গিত দিয়ে রাখল প্রশাসন। ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল মহম্মদ মোভায়েদি আজাদ জানিয়েছেন, শুধু বিক্ষোভকারীরাই নয়, তাঁদের মদতদাতাদেরও একই ফল ভুগতে হবে।
গতকাল, শনিবার ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পেহলভি শহরের প্রাণকেন্দ্র দখলের ডাক দিয়েছেন। এরই মাঝেই ইরানে মার্কিনি হামলার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প বলেছেন, ‘সবরকম সাহায্যের জন্য প্রস্তুত।’ তারপরেই শুরু হয়েছে জল্পনা। তবে কী আকাশপথে তেহরানে ফের হামলার ছক আমেরিকার? এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে আন্তর্জাতিক মহলে। ইজরায়েল পরিস্থিতির কথা মাথাতে রেখে সবরকম প্রস্তুতি সেরে রাখছে। এদিকে আমেরিকাকে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে ইরানও। আজ, রবিবার ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাকের কালিবাফ জানিয়েছেন, যদি আমেরিকা হামলা চালায়, তার ফল ভুগতে হবে ইজরায়েলকে। এদিন ইরানের পার্লামেন্টের অধিবেশন ছিল, তাতে সকলকে মার্কিনি হানা নিয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।