Bartaman Logo
২৮ মে, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

আমেরিকার পালটা এবার ১৪ দফা প্রস্তাব ইরানেরও, মানবেন না, ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন ট্রাম্প

পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফেরাতে সম্প্রতি ইরানকে ৯টি প্রস্তাব দিয়েছিল আমেরিকা। এবার সরকারিভাবে পালটা ১৪টি প্রস্তাব দিল তেহরান।

আমেরিকার পালটা এবার ১৪ দফা প্রস্তাব ইরানেরও, মানবেন না, ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন ট্রাম্প
  • ৪ মে, ২০২৬ ০৪:০০

ওয়াশিংটন: পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফেরাতে সম্প্রতি ইরানকে ৯টি প্রস্তাব দিয়েছিল আমেরিকা। এবার সরকারিভাবে পালটা ১৪টি প্রস্তাব দিল তেহরান। ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম এবং ফারস জানিয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় সাময়িকভাবে যুদ্ধ বন্ধের বদলে স্থায়ী সমাধান চাইছে ইরান। তাই পাকিস্তানের মাধ্যমে নতুন প্রস্তাবগুলি আমেরিকার কাছে পাঠানো হয়েছে। এর আগেও ইরান জানিয়েছিল, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতির বদলে তারা ৩০ দিনের মধ্যেই সমস্যা সমাধানে আগ্রহী। নতুন প্রস্তাবে ইরানের শর্ত, ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসন চালানো যাবে না। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। হরমুজ প্রণালীর আশপাশে নৌ-অবরোধ তুলে নিতে হবে। এছাড়া ইরানের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিদেশে বাজেয়াপ্ত করা সম্পত্তি ফেরত এবং লেবানন সহ সব জায়গায় যুদ্ধ বন্ধের শর্তও দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী পদক্ষেপ আমেরিকাকেই নিতে হবে বলেও জানিয়ে দিয়েছে তেহরান। ইরানের উপ বিদেশমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি স্পষ্টই জানিয়েছেন, বল এখন আমেরিকার কোর্টে। তারা কূটনৈতিক পথে হাঁটবে নাকি ফের সংঘাতে জড়াবে, তা ওয়াশিংটনই ঠিক করুক।

Advertisement

যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাবে আদৌ সাড়া দেবেন কি না, তা নিয়ে সন্দিহান রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। ট্রাম্প নিজেও সেই ইঙ্গিতই দিয়েছেন। ১৪ দফা প্রস্তাবের বিষয়ে শনিবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘এটা কখনই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। গত ৪৭ বছরে সারা বিশ্ব ও মানবতার বিরুদ্ধে ইরান যা করেছে, তার জন্য এখনও ওদের বড়ো মূল্য চোকাতে হয়নি। ওদের প্রস্তাবের বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা পরে আপনাদের জানাব।’ কয়েকদিন আগেও ইরানের পাঠানো প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছিলেন ট্রাম্প। 
এদিকে, খাতায়-কলমে দুই দেশের সংঘর্ষ বিরতি চললেও জলপথে ইরান ও আমেরিকার সংঘাত থামেনি। শুক্রবারই ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, মার্কিন সেনা ইরানের তেলবাহী দুটি জাহাজ আটক করেছে। নিজেদের ‘জলদস্যু’ এবং জাহাজ আটক করাকে ‘লাভজনক ব্যবসা’ বলেও উল্লেখ করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের সেই মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছে ইরান। ট্রাম্প নিজেই সমুদ্রে ডাকাতির মতো বেআইনি কাজ ও জলদস্যুদের উত্সাহ দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ তেহরানের।

সম্পর্কিত সংবাদ