Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

বিশ্বের জন্য হরমুজ খুলে দেওয়ার ঘোষণা ইরানের, স্বাগত জানিয়েও অবরোধের কথা জানালেন ট্রাম্প

অবশেষে স্বস্তি। লেবানন-ইজরায়েল সংঘর্ষবিরতিতে সম্মত হতেই শুক্রবার গোটা বিশ্বের জন্য হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করল ইরান। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, ‘লেবাননে সংঘর্ষবিরতির প্রেক্ষাপটে সব বাণিজ্যিক জাহাজের জন্যই হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করা হল।

বিশ্বের জন্য হরমুজ খুলে দেওয়ার ঘোষণা ইরানের, স্বাগত জানিয়েও অবরোধের কথা জানালেন ট্রাম্প
  • ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ২২:০৪
Prefer us on Google

ওয়াশিংটন: অবশেষে স্বস্তি। লেবানন-ইজরায়েল সংঘর্ষবিরতিতে সম্মত হতেই শুক্রবার গোটা বিশ্বের জন্য হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করল ইরান। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, ‘লেবাননে সংঘর্ষবিরতির প্রেক্ষাপটে সব বাণিজ্যিক জাহাজের জন্যই হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করা হল। সংঘর্ষবিরতির শেষদিন পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী খোলা থাকবে।’ ইরানের এই ঘোষণার পর নিজের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে পোস্ট করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি লেখেন, ‘হরমুজ প্রণালীকে সকলের জন্য উন্মুক্ত করবার ঘোষণা করেছে ইরান। ধন্যবাদ।’ কিছুক্ষণের মধ্যেই অবশ্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট খোলসা করে দেন, সংকীর্ণ এই সমুদ্রপথ উন্মুক্ত করা হলেও ইরানের উপর মার্কিন নৌ-অবরোধ জারি থাকবে। যতক্ষণ না পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত হচ্ছে, ততদিন এই অবরোধ চলবে বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প। বৃহস্পতিবারই মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালী নয়, ইরানের বন্দর ও উপকূলগুলি অবরোধ করেছে মার্কিন বাহিনী।  ১২টি নৌবাহিনীর জাহাজ, ১০০-র বেশি বিমান ও ১০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। এর নেতৃত্বে রয়েছে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ আব্রাহাম লিঙ্কন।

Advertisement

ইতিমধ্যেই ১০ দিনের সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয়েছে ইজরায়েল ও লেবানন। আগামী সপ্তাহে শেষ হচ্ছে ইরান ও আমেরিকার সংঘর্ষবিরতির মেয়াদ। তার আগে লেবাননে সংঘর্ষবিরতি দুই যুযুধান দেশের মধ্যে চুক্তির পথ আরও সুগম করল বলেই মনে করছে তথ্যাভিজ্ঞ মহল। মার্কিন কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে তেহরানের অন্যতম দাবি ছিল লেবাননে ইরানের সহযোগী হিজবুল্লার উপর আক্রমণ বন্ধ করতে হবে ইজরায়েলকে। যদিও তা মানতে নারাজ ছিলেন নেতানিয়াহু। শেষ পর্যন্ত মার্কিন প্রেসিডেন্টের চাপের কাছে লেবানন অভিযান স্থগিত রাখতে হয়েছে ইজরায়েলকে। তবে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, সংঘর্ষবিরতি হলেও লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করা হবে না। অন্যদিকে হিজবুল্লার দাবি, লেবাননের হয়ে যাবতীয় আলোচনা করুক ইরানই। কারণ দেশের সরকার নেতৃত্ব দিতে অক্ষম ও অযোগ্য। 
এদিকে ইরান ও আমেরিকার শান্তি চুক্তির ক্ষেত্রে কূটনৈতিক দৌত্য অব্যাহত পাকিস্তানের। বৃহস্পতিবারই পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির দেখা করেছেন ইরান সংসদের স্পিকারের সঙ্গে। সংঘর্ষবিরতি আরও বাড়ানোর পক্ষে আলোচনা হয়েছে দু’জনের। জানা যাচ্ছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালী ও যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ। এই তিন বিষয়ে দু’পক্ষকে সহমত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন মধ্যস্থতাকারীরা। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ