সোমনাথ বসু, কলকাতা: ‘পার্টি পাঠানকে ঘর রাখোগে তো মেহমান নওয়াজি কে লিয়ে পাঠান খুদ আয়েগা, আওর পটাকে ভি লায়েগা’— মনে পড়ে ‘পাঠান’ সিনেমার সেই জনপ্রিয় ডায়লগ? আর সেটাই শনিবারের সন্ধ্যায় ইডেনের রিংটোন।
সোমনাথ বসু, কলকাতা: ‘পার্টি পাঠানকে ঘর রাখোগে তো মেহমান নওয়াজি কে লিয়ে পাঠান খুদ আয়েগা, আওর পটাকে ভি লায়েগা’— মনে পড়ে ‘পাঠান’ সিনেমার সেই জনপ্রিয় ডায়লগ? আর সেটাই শনিবারের সন্ধ্যায় ইডেনের রিংটোন।
কলকাতা নাইট রাইডার্সের ডেরা ইডেনে আইপিএলের বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘মেহমান নওয়াজি’র দায়িত্বে খোদ বাদশা। সঞ্চালনার দায়িত্ব এমনভাবে তুলে নিলেন নিজের কাঁধে যে দেখে মনে হল, সৌরভ গাঙ্গুলি নন, তিনি এখনও এই বাংলার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাস্যাডর।
ক্রিকেট এবং বিনোদন— শেষ কথা বলেন তারকারাই। এদিন একই মঞ্চে বলিউডের বাদশা ও কিং কোহলির যুগলবন্দি বহুদিন তাই মনে রাখতে বাধ্য অনুরাগীরা। দু’জনের মধ্যে সংলাপের কোলাজ, সম্পর্কের উষ্ণতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা মনে রাখার মতো।
বিপক্ষ দলের সেরা অস্ত্রের ব্যাটে স্ট্রোকের ফুলঝুরির কামনা করলেন শাহরুখ। চিহ্নিত করলেন ‘ওয়ান অ্যান্ড অনলি গোট’ হিসেবে। এখানে ‘গোট’ মানে ‘গ্রেটেস্ট অব অল টাইম।’ বললেন, ‘বিরাটই একমাত্র ক্রিকেটার যে ২০০৮ সাল থেকে একই দলের হয়ে আইপিএলে খেলে আসছে।’ আর ‘পাঠান’ সিনেমার ‘ঝুমে যো পাঠান’ গানে নাচলেন কোহলি। বোঝাই গেল না যে তিনি ক্রিকেটার। বরং শাহরুখের সঙ্গে সমান তালে পা মেলালেন ভিকে। উপরি পাওনা শ্রেয়া ঘোষালের মিষ্টি কণ্ঠস্বর। ‘আমি যে তোমার’ গানে সুরের ভুলভুলাইয়ায় ঘুরল গ্যালারি। এরপর করণ আহুজা ‘তওবা তওবা’ গানে মাতালেন গ্যালারি। কম গেল না দিশা পাটানির ঠুমকাও। শুধু তাই নয়, বাদশার সঙ্গে ‘ঝুমে যো পাঠান’ গানে কোমর দোলালেন কিং কোহলিও। এসআরকে’র ‘লুটপুট গ্যায়াতে’ রিঙ্কু সিংয়ের নাচ আবার আনল হাস্যরস। সব মিলিয়ে শনিবার ইডেনে আইপিএলের উদ্বোধন সুপারহিট।
কলকাতায় আইপিএলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আগেও হয়েছে। আমেরিকান পপ সিঙ্গার পিটবুল পর্যন্ত গান গেয়ে গিয়েছেন। কিন্তু আইপিএলের ১৮তম আসরের উদ্বোধন নিয়ে উন্মাদনা অতীতের সব বেঞ্চমার্ক ছাপিয়ে গেল। শনিবার দুপুর থেকেই শহরের সমস্ত রাস্তায় ইডেনমুখী। অনুষ্ঠান শুরুর এক ঘণ্টা আগেই গ্যালারি প্রায় ভর্তি। আর ছ’টা বেজে পাঁচ মিনিটে কাউন্টডাউন হতেই আবেগের বিস্ফোরণ শুরু। ক্রোড়পতি লিগের প্রথম চ্যাম্পিয়ন রাজস্থান রয়্যালস, ডেকান চার্জার্স হয়ে ১৭তম চ্যাম্পিয়ন কলকাতা নাইট রাইডার্সের ট্রফি জয়ের ছবি যখন জায়ান্ট স্ক্রিনে ফুটে উঠল, গ্যালারি তখন পাগলপারা। তারপরই চারিদিক অন্ধকার। হঠাত্ হাজার ওয়াটের আলো পড়ল ইডেনের সবুজ গালিচায়। সেখানে মাইক্রোফোন হাতে দাঁড়িয়ে শাহরুখ। কালো প্যান্ট ও শার্টের উপর কালো জ্যাকেট, চোখে একই রঙের চশমা পরিহিত বলিউডের বাদশাকে চোখের দেখাতেই যেন অধরা মাধুরী প্রাপ্তি সমর্থকদের।
কিন্তু অপ্রাপ্তিও যে রইল নাইট অনুরাগীদের। ঘরের মাঠে প্রথম ম্যাচেই যে হারের স্বাদ পেলেন তাঁরা। অজিঙ্কা রাহানের গড়া মঞ্চে বড় রান তুলতে ব্যর্থ রাসেল-রিঙ্কুরা। আরসিবি’র সফলতম বোলার ক্রুণাল পান্ডিয়া। তিন উইকেট নিয়ে তিনিই ম্যাচের সেরা। ক্রুণালের দাপটেই ১৭৪ রানে থামল নাইটদের ইনিংস। আর এই পুঁজি বিরাটদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। কারণ, বরুণ চক্রবর্তীদের পাড়ার ক্রিকেটের স্তরে এদিন নামিয়ে আনলেন কিং কোহলি (৫৯ নট আউট)। আলাদা করে বলতে হবে ফিল সল্টের কথাও। গতবার নাইটদের খেতাব জয়ের অন্যতম কারিগর ছিলেন তিনি। কিন্তু এবার তাঁকে রাখা হয়নি। কেকেআর ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত যে ভুল, তা বোঝাল শনিবারের ইডেন। সল্টের ৫৬ রানই নাইটদের কোমর ভেঙে দেয়।