নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মুস্তাফিজুর ইস্যুতে আরও কড়া পদক্ষেপ নিল বাংলাদেশ। ভারতে টি-২০ বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর দেশের মাটিতে আইপিএল সম্প্রচার নিষিদ্ধ করল ইউনুস সরকার। শুধু এবছর নয়, অনির্দিষ্টকালের জন্য এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে। জনস্বার্থে এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রাণালয়।
এতদিন বিষয়টি ছিল দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে। এবার বাইশ গজে সরাসরি সরকারি হস্তক্ষেপ। ইউনুস সরকারের এই পদক্ষেপের পিছনে রাজনীতির অঙ্ক লুকিয়ে রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। আসলে ফেব্রুয়ারিতে হবে বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচন। হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে প্রবল ভারত বিরোধিতা লক্ষ্য করা গিয়েছে। ছাই চাপা আগুনে হাত সেঁকার চেষ্টা করছে ইউনুস সরকার। মুস্তাফিজুর ইস্যুকে তাই জিইয়ে রাখাই তাদের লক্ষ্য। প্রথমে ভারতের মাটিতে টি-২০ বিশ্বকাপের ম্যাচ না খেলার কথা বলা হয়। এবার আইপিএল সম্প্রচার নিষিদ্ধ করে রীতিমতো সংঘাতের বার্তা দিল বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ফেব্রুয়ারিতে ভোট মিটলেই পরিস্থিতি দ্রুত বদলাবে। নবনির্বাচিত সরকারের প্রথম লক্ষ্য থাকবে প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক সুদৃঢ় করা। তার আগে ভোট বৈতরণী পার হতে মুস্তাফিজুর ইস্যুকে বড় করে তুলে ধরা হচ্ছে। একটাই লক্ষ্য, জনগণের সহানুভূতি কুড়িয়ে ভোটযুদ্ধে ফায়দা তোলা।
তবে বাংলাদেশের এক প্রাক্তন ক্রিকেটারের মতে, জল অনেকদূর গড়িয়েছে। ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ না খেলতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত বুমেরাং হতে পারে। কারণ, বিসিসিআই বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ও শক্তিশালী ক্রিকেট বোর্ড। তার উপর আইসিসি’র চেয়ারম্যান জয় শাহ। তাই জলে থেকে কুমিরের সঙ্গে বিবাদ করে বাংলাদেশ ক্রিকেটের লাভ হবে না। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ভারতের সঙ্গে সবার আগে বন্ধুত্ব গড়ে তোলা জরুরি। আশা করা হচ্ছে, সেটাই হবে। না হলে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা আইপিএলের মতো জনপ্রিয় টুর্নামেন্টে আর কখনও খেলার সুযোগ পাবে না। সেপ্টেম্বরে ভারতীয় দলের বাংলাদেশ সফর রয়েছে। সেই সিরিজ হলে বিসিবি আর্থিক দিক থেকে অনেক লাভবান হবে। সিরিজ বাতিল হলে বিপুল ক্ষতি। আর সেটা পাকিস্তানের মতো ধুঁকতে থাকা দলের সঙ্গে খেলে পোষানো সম্ভব নয়। যে ডালে বসে থাকা, সেই ডাল কাটা বোকামি। কিন্তু প্রশাসনকে সেটা কে বোঝাবে। বেড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধার সাহস কারও নেই। একটু বেগতিক দেখলেই ‘কাফের’ বলে দাগ লাগিয়ে দেওয়া হবে।