Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রিসর্টে আইপিএলের বেটিং চক্র, গ্রেপ্তার ৪

রিসর্টে আইপিএলের বেটিং চক্র, গ্রেপ্তার ৪
  • ১ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে লাটাগুড়ির একটি রিসর্টে বসে আইপিএল বেটিং চালানোর অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করল জলপাইগুড়ি পুলিস। ধৃতদের নাম ঋত্বিক সেন, সোনা দাস, প্রসেনজিৎ সরকার ও বিপ্লবকুমার সিনহা। প্রত্যেকেরই বাড়ি জলপাইগুড়ি। তাদের কাছ থেকে সাতটি মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিস। সেইসব মোবাইল ঘেঁটে পুলিস অনলাইন জুয়া ও মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে আইপিএল বেটিং চালানোর প্রমাণ পেয়েছে। 

Advertisement

জলপাইগুড়ির পুলিস সুপার খণ্ডবাহলে উমেশ গণপত বলেন, দিন কয়েক আগে জলপাইগুড়ি শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে আইপিএল বেটিং চালানোর অভিযোগে দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের জেরা করে এই চারজনের নাম পাওয়া যায়। লাটাগুড়ির একটি রিসর্টে লুকিয়ে ছিল এরা। সেখানে বসে বেটিং চক্র চালাচ্ছিল। মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। এই চক্রে আর কারা জড়িত তা জানতে ধৃতদের জেরা করা হবে। 
পুলিস সূত্রে খবর, ধৃতরা আইপিএল বেটিং চক্রের পান্ডা। এদের প্রত্যেকের কাছেই প্রচুর আইডি রয়েছে। সেইসব আইডি দিয়ে অনেকে বেটিং চালাত। প্রতিটি আইডি’তে লক্ষ লক্ষ টাকার লেনদেনের হদিশ মিলেছে। কোতোয়ালি থানার আইসি সঞ্জয় দত্ত বলেন, অনলাইন জুয়া ও বেটিং চক্রের বড় কোনও চেইনের সঙ্গে এদের যোগ রয়েছে বলে মনে হচ্ছে। শুধু জলপাইগুড়ি নয়, ধৃতদের কাছ থেকে আইডি নিয়ে বাইরের অনেকেও বেটিং চালাত। পুলিস ধরপাকড় শুরু করতেই এরা লাটাগুড়িতে পালিয়ে যায়। সেখানে একটি রিসর্টে বসে দিব্যি বেটিং চালাচ্ছিল। ঋত্বিক সেন ও প্রসেনজিৎ সরকারের বাড়ি জলপাইগুড়ি শহর লাগোয়া পাহাড়পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের জমিদারপাড়ায়। অন্যদিকে, ধৃত সোনা দাস ও বিপ্লবকুমার সিনহা জলপাইগুড়ি শহরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের পানপাড়ার বাসিন্দা। দিন চারেক আগে কোতোয়ালি থানার পুলিসের কাছে খবর আসে, শহরের ধারেকাছে আইপিএল বেটিং চক্র চলছে। ওই খবর পেয়ে নজরদারি শুরু করে পুলিস। এরপরই শহর লাগোয়া তিস্তাপাড়ের দিঘলবাজারে একটি সাইবার কাফেতে হানা দেয় কোতোয়ালি থানার পুলিস। সাইবার কাফের মালিক মিলন সেনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই বেটিং চক্রের সবটা ফাঁস করে দেন তিনি। তারপরই তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। ওই সাইবার কাফে থেকে কম্পিউটার, মোবাইল বাজেয়াপ্ত করা হয়। সেগুলি পরীক্ষা করে দেখে জলপাইগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানার পুলিস। দেখা যায়, ওই কাফে থেকে বাজেয়াপ্ত করা কম্পিউটার, মোবাইল থেকে অনলাইন জুয়া ও বেটিং চলে। কাফের মালিক মিলনকে জেরা করে জলপাইগুড়ির ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সেনপাড়া থেকে মৃন্ময় সেন নামে বেটিং চক্রের আরও একজনকে পাকড়াও করে পুলিস। আর এবার তাদের জেরা করে পাকড়াও হল চক্রের পান্ডারা। - নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ