নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মার্কিন তথ্যকেন্দ্রে জঙ্গি হামলায় সাজাপ্রাপ্ত আফতাব আনসারি ওরফে ফারহান মালিক বর্তমানে প্রেসিডেন্সি জেলে বন্দি। তার সেল থেকে আবারও মিলল দু’টি মোবাইল, দু’টি সিম কার্ড, দু’টি রাউটার ও নগদ ৩১ হাজার টাকা। উদ্ধার হওয়া মোবাইলের মধ্যে একটি আবার আইফোন। দু’টি ফোনেই ইন্টারনেট সংযোগ ছিল। গত ২৩ আগস্ট প্রেসিডেন্সি ও দমদম জেলের কর্তাদের যৌথ তল্লাশিতে উদ্ধার হয় সেগুলি। এছাড়াও পাওয়া গিয়েছে দু’টি কার্ড রিডার, একটি পেন ড্রাইভ, একটি অ্যাডাপ্টর সহ বিভিন্ন সামগ্রী। এর আগে ২০১২, ২০১৬ এবং ২০১৯ সালেও আফতাবের সেল থেকে মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছিল। এবারের ঘটনায় জেলের তরফে হেস্টিংস থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। মোবাইল ও অন্যান্য জিনিস বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। জেলে বসে আফতাব পাকিস্তানে কাউকে ফোন করছিল কি না, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে কলকাতা পুলিশের এসটিএফ। তাকে জেরাও করা হতে পারে। আপাতত কীভাবে ফোন সহ অন্যান্য গ্যাজেট আফতাবের সেলে পৌঁছল, তা জানতে চলছে জেরা। এক্ষেত্রে কারারক্ষীদের ভূমিকাও তদন্তকারীদের স্ক্যানারে। এন রমেশবাবু সিআইডির নয়া ডিজি হওয়ার পর থেকেই এই ধরনের কুখ্যাত অপরাধীদের সেলে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
২০০২ সালের ২২ জানুয়ারি কলকাতায় মার্কিন তথ্যকেন্দ্রে জঙ্গি হামলা চলে। জঙ্গিদের গুলিতে পাঁচ পুলিশ কর্মীর মৃত্যু হয়। আহত হন অন্তত ২০ জন। সেই সময় দুবাই থেকে ফারহান আনসারি পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তির ফোন আসে রাজ্য পুলিশের সদর দপ্তরে। সে জানায়, তপসিয়ার মফিদুল ইসলাম লেনের বাসিন্দা আসিফ রেজা হত্যার বদলা নিতে এই হামলা চালিয়েছে ‘আসিফ রেজা কমান্ডো ফোর্স’। তদন্তে জানা যায়, ২০০১ সালে খাদিম কর্তা পার্থপ্রতিম রায়বর্মণ অপহরণ কাণ্ডের মূলচক্রী এই ফারহান মালিক ওরফে আফতাব আনসারি। পাক জঙ্গি সংগঠন জয়েশ-ই-মহম্মদের হয়ে কাজ করা এই জঙ্গি ২০০২ সালে ফেব্রুয়ারিতে দুবাই বিমানবন্দর থেকে ধরা পড়ে। তাকে ভারতে নিয়ে আসে সিবিআই। তুলে দেওয়া হয় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের হাতে। প্রথমে তার ঠিকানা ছিল আলিপুর জেল। এই জেল মিউজিয়ামে রূপান্তরিত হলে, প্রেসিডেন্সি জেলের ১৩ নম্বর সেল হয় আফতাবের নতুন ঘর। তার উপর প্রথম থেকেই নজরদারি চালিয়ে আসছে এসটিএফ। বিশেষ করে সে জেলে বসে পাকিস্তানের কোনো জয়েশ জঙ্গির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে কি না, তা জানাই আসল উদ্দেশ্য। ২০১২ সালের শেষে এসটিএফের স্ক্যানারে ধরা পড়ে, আলিপুর জেল থেকে পাকিস্তানের করাচিতে একটি নম্বরে ঘন ঘন কল যাচ্ছে। তদন্তে জানা যায়, করাচির ওই নম্বরটি আফতাবের স্ত্রীর। স্ত্রীর মাধ্যমে ভারতে নেটওয়ার্ক চাঙ্গা করছিল সে। সেই সময় আফতাবের সেলে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয় দু’টি মোবাইল ও সিম কার্ড।
আবার ২০১৬ সালে আফতাবের ফেসবুক প্রোফাইল নজরে আসে গোয়েন্দাদের। দেখা যায়, নীল টি শার্ট, সাদা প্যান্ট ও রিমলেস চশমা পরা আফতাবের ছবি। ইন্টারনেট কানেকশনের সূত্রে সামনে আসে, এই প্রোফাইল চলছে জেল থেকে। সেল থেকে উদ্ধার হয় মোবাইল। তিন বছর পর, ২০১৯ সালেও তার কাছ থেকে ফের মোবাইল ও সিম কার্ড পান অফিসাররা। সম্প্রতি ফের আফতাবের সেল থেকে মোবাইল মেলায় লালবাজারের গোয়েন্দাদের অনুমান, জেলে বসে সে পাকিস্তানে যোগাযোগ করছিল। সূত্রের খবর, পাকিস্তানের করাচিতে ফোন করেছিল এই জঙ্গি। নতুন করে নেটওয়ার্ক গড়ার চেষ্টা করছিল বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে। এমনকি, জেলে বসে আফতাব ফোনে কাউকে টাকা চেয়ে হুমকি দিচ্ছিল কি না, সেটাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।