Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ইঞ্জিন ভ্যানের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ পথচারী থেকে যানবাহন চালকরা, ঘটছে দুর্ঘটনা, ব্যবস্থার আশ্বাস পুলিস-প্রশাসনের

ইঞ্জিন ভ্যানের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ পথচারী থেকে যানবাহন চালকরা, ঘটছে দুর্ঘটনা, ব্যবস্থার আশ্বাস পুলিস-প্রশাসনের
  • ৪ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: ইঞ্জিন ভ্যান বা ভ্যানো চালকদের দৌরাত্ম্যে বাঁকুড়ায় পথচারী ও অন্যান্য যানবাহনের চালকরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। দীর্ঘদিন ধরে বাঁকুড়া সদর সহ জেলার প্রায় প্রতিটি থানা এলাকায় বেআইনিভাবে ইঞ্জিন ভ্যান চলাচল করলেও পুলিস বা জেলা প্রশাসনের আওতায় থাকা আঞ্চলিক পরিবহণ দপ্তর কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাঝেমধ্যেই ইঞ্জিন ভ্যান চালকরা অন্যান্য যানবাহনকে ধাক্কা মারছে। কখনও চাকা খুলে নিজেরাই কার্যত মুখ থুবড়ে পড়ছে। তারপরও পুলিস ও প্রশাসনের হুঁশ ফিরছে না বলে জেলাবাসীর অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে অবশ্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাঁকুড়ার জেলাশাসক সিয়াদ এন ও পুলিস সুপার বৈভব তেওয়ারি।
Advertisement
বাঁকুড়ার ট্রফিক পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, ইঞ্জিন ভ্যান চলাচলের উপর বেশকিছু বিধিনিষেধ রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তরফে আমাদের এব্যাপারে প্রয়োজনীয় নির্দেশ আগেই দেওয়া হয়েছে। রাতে কোনওভাবেই ইঞ্জিন ভ্যান চলতে দেওয়া যাবে না। তবে এখনও সেভাবে কোনও অভিযান চালানো হয়নি। দ্রুত এব্যাপারে আমরা পদক্ষেপ গ্রহণ করব। 
উল্লেখ্য, ইঞ্জিন-ভ্যান চলাচলে কোনও সরকারি অনুমতি নেওয়া হয় না। ওই যানবাহন থেকে ব্যাপক দূষণ ছড়ায়। ভ্যানোতে সেভাবে ‘ব্রেক’ থাকে না। ফলে চালক সহজে চলমান ইঞ্জিন ভ্যান থামাতে পারেন না। ব্রেকে চালক পা দিলেও বেশ কিছুটা দূরে গিয়ে দাঁড়ায়। মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটে। বেশিরভাগ ইঞ্জিন ভ্যানে হেডলাইট থাকে না। রাতের অন্ধকারে ঝুঁকি নিয়ে চালকরা চালিয়ে থাকেন। ফলে ওই ধরনের যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করার দাবি দীর্ঘদিন ধরেই উঠছে। এব্যাপারে আদালত ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের তরফেও পুলিস তথা পরিবহণ দপ্তরকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছে। ট্রাফিক পুলিস ব্যবস্থা নিলে জেলায় বেআইনি ইঞ্জিন ভ্যানোর দৌরাত্ম্য কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভ্যানোতে বালি, পাথর, সিমেন্টের মতো নির্মাণ সামগ্রীর পাশাপাশি চাল, ডাল, আটা, ভোজ্যতেলের টিন সহ নানা নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বহন করা হয়। মাঝেমধ্যে একটি ভ্যানোয় পিকআপ ভ্যানের সমান মালপত্র বোঝাই করা হয়। পিক আপ ভ্যানের তুলনায় ইঞ্জিন ভ্যানের ভাড়া অনেক কম। ফলে পরিবহণ খরচ বাঁচাতে ব্যবসায়ী তথা ক্রেতাদের একাংশ ইঞ্জিন ভ্যানোয় সামগ্রী বহনকে অগ্রাধিকার দেন। পুলিসও রাস্তায় ভ্যানো দেখে নিষ্ক্রিয় থাকে। তার ফল অন্যান্যদের ভোগ করতে হচ্ছে।
সম্পর্কিত সংবাদ