নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: ১৬ বছরের কিশোর সাগরদ্বীপ দাস। বাড়ি কোচবিহার শহর সংলগ্ন টাকাগাছ এলাকায়। শহরের নৃপেন্দ্রনারায়ণ উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র। এবার মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবে। সুস্থ ছেলে হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। হাত-পা অবশ হয়ে আসে। চলাফেরা বন্ধ হয়ে যায়। গত ২২ জানুয়ারি পরিবারের সদস্যরা তাকে কোচবিহারের মহারাজা জিতেন্দ্রনারায়ণ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক রোগ নির্ণয় করেন গুলেনবেরি সিনড্রোম (জিবিএস)। এরপর ২৩ জানুয়ারি তাকে শিলিগুড়ির উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে রেফার করে দেওয়া হয়। কারণ? এই রোগের জন্য যে ইঞ্জেকশন দিতে হয় তা এখানে মজুত নেই। চিকিৎসক রেফার করেই দায় সারেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোরও প্রয়োজন বোধ করেননি তিনি।
Advertisement
এদিকে রোগীর পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র। তাঁরা অথৈ জলে পড়েন। এই রোগের চিকিৎসার জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন। বাধ্য হয়েই অর্থ সংগ্রহের জন্য সাহায্য প্রার্থী হন তাঁরা। সেই টাকায় শনিবার ছেলেকে নিয়ে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের উদ্দেশে রওনা দেন তাঁরা। আর এদিনই বিষয়টি কোচবিহার মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষের নজরে আসে। তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন নির্দিষ্ট ইঞ্জেকশনটি শুধু যে মেডিক্যাল কলেজে নেই তাই নয়, সেটি আসতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে। সরবারাহের সমস্যার কারণেই ওই ইঞ্জেকশন রোগীকে দেওয়া যায়নি। কিন্তু একটি জীবনদায়ী ইঞ্জেকশন মেডিক্যাল কলেজে নেই, রোগী ভর্তি হওয়ার পর তাকে রেফার করতে হচ্ছে, এই পরিস্থিতির কথা তাঁকে ১১ দিন আগে কেন জানানো হল না? এখানেই ফুটে উঠছে মেডিক্যাল কলেজের সমন্বয়ের অভাব। যদি ওইদিনই বিষয়টি সামনে আসত তাহলে অসুস্থ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীকে সাহায্য করার জন্য আরও অনেকেই এগিয়ে আসতে পারতেন। যদিও মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ এদিন বিষয়টি জানার পরেই উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের এমএসভিপির সঙ্গে কথা বলেন। পাশাপাশি কেন এই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক তাঁকে জানালেন না, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখতে শুরু করেছেন।
সাগরদ্বীপের মা রঞ্জিতা দাস বলেন, কোচবিহার মেডিক্যালে ছেলেকে ভর্তি করার পর সেখান থেকে বলা হয় তার জিবিএস হয়েছে। ভর্তির পরদিন রাতে তাকে রেফার করা হয়। কিন্তু অর্থাভাবে আমরা তাকে নিয়ে যেতে পারিনি। সাহায্য চেয়ে অর্থ সংগ্রহ করে এদিন উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে নিয়ে যাচ্ছি।
কোচবিহার মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ নির্মলকুমার মণ্ডল বলেন, ইঞ্জেকশনের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার কারণে ওই রোগীকে রেফার করা হয়েছিল। এটা সময় মতো আমাকে জানানো উচিত ছিল। সোম-মঙ্গলবার সেই ওষুধ আসবে। উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের এমএসভিপি সঞ্জয় মল্লিকের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁকে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখতে বলেছি।
সাগরদ্বীপের মা রঞ্জিতা দাস বলেন, কোচবিহার মেডিক্যালে ছেলেকে ভর্তি করার পর সেখান থেকে বলা হয় তার জিবিএস হয়েছে। ভর্তির পরদিন রাতে তাকে রেফার করা হয়। কিন্তু অর্থাভাবে আমরা তাকে নিয়ে যেতে পারিনি। সাহায্য চেয়ে অর্থ সংগ্রহ করে এদিন উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে নিয়ে যাচ্ছি।
কোচবিহার মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ নির্মলকুমার মণ্ডল বলেন, ইঞ্জেকশনের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার কারণে ওই রোগীকে রেফার করা হয়েছিল। এটা সময় মতো আমাকে জানানো উচিত ছিল। সোম-মঙ্গলবার সেই ওষুধ আসবে। উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের এমএসভিপি সঞ্জয় মল্লিকের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁকে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখতে বলেছি।



