সংবাদদাতা, দিনহাটা: মহালয়ার দিন থেকেই শুরু হয় দেবী দুর্গার আরাধনা। তবে কোচবিহারের বাইশগুড়ি গ্রামের মানব কল্যাণ সঙ্ঘাশ্রমে এই আরাধনা সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী। দেবী দুর্গা এখানে ১০ নয়, বরং ১৮ হাত নিয়ে ‘অষ্টাদশভুজা’ রূপে পূজিতা হন।
পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, বিন্দু বাসিনী পর্বতে মহিষাসুর বধের সময় দেবী দুর্গা ৯ দিনে ১৮টি রূপ ধারণ করেছিলেন। দেবী ভাগবতীর সেই রূপকেই এই আশ্রমে দেবী দুর্গা হিসাবে আরাধনা করা হয়। চলতি বছর এই পুজো ২৮ তম বর্ষে পদার্পণ করল।
পঞ্চদশ নং জুনা আখড়ার মহামণ্ডলেশ্বর স্বামী গণেশানন্দ মহারাজ স্বপ্নাদেশ পেয়ে কোচবিহারের বাইশগুড়ি গ্রামে এই আশ্রমে অষ্টাদশভুজা দুর্গাপুজোর সূচনা করেন। বৈদিক তন্ত্র মতে এই পুজো হয়ে আসছে। প্রথম কয়েক বছর মাটির তৈরি প্রতিমায় পুজো হলেও ২০১১ সালে মন্দিরে পাথরের স্থায়ী মূর্তি বসানো হয়। তারপর থেকে সেই প্রতিমাতেই পুজো হয়ে আসছে। তবে প্রতি বছর প্রতিমায় নতুন করে রং করা হয় এবং মহালয়ার সকালে শিল্পী দেবীর চক্ষুদান করেন।
প্রথা মেনে মহালয়ার রাতে অধিবাস ও আমন্ত্রণ পুজোর মাধ্যমে এই পর্বের সূচনা ঘটে। মহাষ্টমীর দিন মণ্ডপ চত্বরে সাড়ম্বরে অনুষ্ঠিত হয় কুমারী পুজো। পাশাপাশি ওই দিন ভক্তদের প্রসাদ বিতরণের জন্য বিশালাকার ভান্ডারার ব্যবস্থা করা হয়।
শুরুর দিকে সামান্য কয়েকজন বাসিন্দা এই পুজোর সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পুজোটি সর্বজনীন রূপ নিয়েছে। বর্তমানে এলাকার বাসিন্দারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোগের বন্দোবস্ত থেকে শুরু করে পুজোর যাবতীয় আয়োজনের দায়িত্ব সামলান। পুজো উপলক্ষ্যে প্রতি বছর বাইশগুড়িতে বাইরে থেকে নাগা সন্ন্যাসীদেরও আগমন ঘটে।
পুজোর প্রতিষ্ঠাতা স্বামী গণেশানন্দ মহারাজ ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে প্রয়াত হয়েছেন। তারপর থেকে এই পুজোর সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও দায়িত্ব সামলাচ্ছেন সঙ্ঘাশ্রমের মহন্তশ্রী সমর্পিতা জানা। তিনি জানান, সঙ্ঘাশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা স্বামী গণেশানন্দ মহারাজ দেবীর স্বপ্নাদেশ পেয়েই এই পুজোর সূচনা করেছিলেন। ভাগবত পুরাণে বর্ণিত বিন্দু বাসিনী পর্বতে মহিষাসুর বধের সময় ৯ দিনে ১৮ রূপ ধারণের স্মরণে দেবী এখানে অষ্টাদশভুজা।
এই পুজোর অন্যতম বিশেষত্ব হল, এখানে স্থায়ী প্রতিমা হওয়ায় দেবী মূর্তি বিসর্জনের কোনো রেওয়াজ নেই। বিজয়া দশমীতে বিধি মেনে কেবল নবপত্রিকা ও ঘট বিসর্জন দেওয়া হয়।



