সৌমিত্র দাস কাঁথি: কলকাতার চোরবাগান-কাণ্ডে মৃত রামনগরের বধূ কল্পনা জানার পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণের ২৫ লক্ষ টাকার চেক তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই সঙ্গে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনার তদন্ত রিপোর্ট তিন মাসের মধ্যেই বিধানসভায় পেশ করা হবে বলেও জানিয়ে দিলেন তিনি।
রামনগরের বাগপুরা এলাকায় কল্পনাদেবীর শ্বশুরবাড়ি। রবিবার সকালে সেখানে আসেন মুখ্যমন্ত্রী। শোকস্তব্ধ স্বামী হরেকৃষ্ণ জানা সহ ছেলে-মেয়ে এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন। সমবেদনা জানান। হরেকৃষ্ণবাবুর হাতে ২৫লক্ষ টাকার চেক তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। সঙ্গে ছিলেন বিধায়ক চন্দ্রশেখর মণ্ডল, জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার, কাঁথির মহকুমা শাসক রোহিত ত্যাগী সহ অন্যান্য প্রশাসনিক আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধিরা। কল্পনাদেবীর শ্বশুরবাড়ি থেকে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মৃত ১৯ জনের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের ১৭ জন এবং দু’জন বিহারের বাসিন্দা। ১৭টি পরিবারেই ব্যক্তিগতভাবে যাচ্ছি। সদস্যদের সঙ্গে কথা বলছি। পাশে থাকার বার্তা দিচ্ছি। রামনগরেও এলাম। মৃতদের পরিবারের সদস্যদের দুঃখ-বেদনা রয়েছে। সরকারেরও কিছু দায়িত্ব-কর্তব্য রয়েছে। আমরা ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দিলাম। পাশাপাশি পরিবারের উপযুক্ত যদি কেউ থাকে, তার কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতিও আমাদের রয়েছে। তাঁর বায়োডাটা জেলাশাসকের হাতে দেওয়ার জন্য পরিবারের লোকজনকে অনুরোধ করেছি। কল্পনাদেবী একটি ছেলে, একটি মেয়ে। তাদের পড়াশোনার অগ্রগতির প্রার্থনা করলাম। দু’জনকে বললাম, আমিও ওদের অভিভাবকের মতো। কোনো অসুবিধা হলে আমরা পাশে রয়েছি।’
উদ্যোক্তাদের চরম গাফিলতিতেই চোরবাগানে বেঘোরে এতগুলি মানুষের মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ তুলেছিল কল্পনাদেবীর পরিবার। এ নিয়ে তাঁরা সঠিক তদন্তের দাবিও তুলেছেন। এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সঠিক তদন্ত করার জন্যই তো রিটায়ার্ড জাস্টিসের হাতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমরা সিটিং জাস্টিস চেয়েছিলাম। চিফ জাস্টিস বলেছেন, সিটিং জাস্টিসের ক্ষেত্রে অসুবিধা রয়েছে। তাঁর কথামতোই রির্টায়ার্ড জাস্টিসকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রিটায়ার্ড জাস্টিস নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করবেন। তিনমাসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট এলে তা বিধানসভায় পেশ করা হবে। তদন্ত কমিটি যে সুপারিশ করবে রাজ্য সরকার সেটাই কার্যকর করবে। কোনো চ্যালেঞ্জ করবে না।’ একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, মৃতদের মধ্যে দু’জনের বাড়ি বিহারের মুজফ্ফরপুরে। সেখানে গিয়ে ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দেওয়া হবে। পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাইকে আমি পাঠাব।’
কলকাতায় একটি মোমো কোম্পানিতে কর্মরত কল্পনাদেবীর স্বামী হরেকৃষ্ণ। সেই সূত্রে উত্তর ২৪পরগনার পানিহাটির ধানকল এলাকায় পরিবার নিয়ে থাকতেন তিনি। মেয়ে জয়িতা আইন নিয়ে প্রথম বর্ষে পড়াশোনা করছেন। ছেলে কিংশুকও সেখানে অষ্টম শ্রেণিতে পাঠরত। হরেকৃষ্ণবাবু কথা বলার মতো অবস্থায় নেই। কল্পনাদেবীর ভাসুর সত্যেন্দ্রনাথ জানা বলেন, ‘এই কঠিন সময়ে মুখ্যমন্ত্রী আমাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। এর থেকে বড় কী হতে পারে?’



