সৈয়দ নিজাম, নাগরাকাটা: ডুয়ার্সে দ্বিতীয় ‘গাছবাবা’! শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি। হাতির আক্রমণ থেকে বাঁচতে গত এক বছর ধরে গাছের ডালে ঘর বেঁধে বসবাস করছেন এক বৃদ্ধ। তাঁর নাম পরিমল রায়। বয়স ৬৩ বছর। তিনি আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাট ব্লকের জয়শ্রী চা বাগানের বাসিন্দা হলেও বর্তমানে তিনি থাকেন নাগরাকাটা বস্তি এলাকা দিয়ে বয়ে যাওয়া জলঢাকা নদীর বাঁধের পাশে একটি গাছের ওপর। জায়গাটি এমনিতেই হাতি যাতায়াত রয়েছে। সন্ধ্যা নামলেই গ্রাম জুড়ে হাতির আতঙ্ক ছড়ায়। কিন্তু পরিমলবাবু নির্বিকার! দিনেরবেলায় বাঁধের পাশে এক টুকরো জমিতে ঢেঁড়স, সিম, বরবটি, করলা, লাউ, সরষে চাষ করেন। কাচের বোতল, টিনের কৌটো, প্লাস্টিকের বোতল কুড়িয়ে বিক্রি করে তাঁর সংসার চলে। গ্রামের অনেকেই তাঁকে খাবার দিয়ে যান। এর আগে দীর্ঘদিন এ ভাবে কাটিয়েছিলেন কালচিনি ব্লকের রাধারাণী চা বাগান সংলগ্ন এলাকায় নদীর ধারে গাছের উপর বসবাসকারি এক ব্যক্তি। যিনি ‘গাছবাবা’ পরিচিতি পেয়েছিলেন।
আর রাত হলেই শুরু হয় তার আসল জীবন সংগ্রাম। গাছের ডালপালা দিয়ে নিজেই বানিয়েছেন খাট। মাথার উপর একটা বড় ছাতা, চারপাশে আরও তিনটি ছাতা দিয়ে ঘেরা। এটাই তাঁর ঘর। হাতির হাত থেকে বাঁচতে এটাই তাঁর দুর্গ। বর্ষার প্রবল বৃষ্টিতে এই গাছ বাড়িতেই তিনি রাত কাটিয়েছেন।
পরিমলবাবু বলেন, হাতিকে বিরক্ত না করলে সে কিছু করে না। হাতি এলে আমি গাছ বাড়িতে চুপটি করে বসে থাকি। ওরা নিজের মতো খাওয়াদাওয়া সেরে চলে যায়।
তিনি জানেন, হাতি চাল আর লবণ খেতে ভালোবাসে। গাছে লবণ রাখেন না। নিচের ছোট্ট কুঁড়ে ঘরে লবণ থাকে। দু’ একবার হাতি এসে সবজি নষ্ট করে গেলেও বড় ক্ষতি করেনি।
কেন ঘর ছাড়লেন? প্রশ্ন করতেই এড়িয়ে গেলেন। শুধু জানালেন, আগে দর্জির কাজ করতেন। বিভিন্ন জায়গায় প্রতারিত হয়েছেন। ব্যক্তিগত কারণেই এই একা থাকার সিদ্ধান্ত।
স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য সুদামা ওরাওঁ বলেন, গত এক বছর ধরে তিনি এভাবেই থাকছেন। তিনি খুব গরিব মানুষ।
জলঢাকা বাঁধের ধারে গাছের ওপর একাকী এক বৃদ্ধের বেঁচে থাকার এই অদম্য লড়াই এখন গোটা এলাকায় সাড়া ফেলে দিয়েছে।



