অনুপ্রবেশ রুখতে কাঁটাতারের ওপারে খাল খনন, হেমতাবাদ ব্লকে কাজ শুরু
  • ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কালিয়াগঞ্জ: সীমান্তে চোরাচালান ও অনুপ্রবেশ রুখতে কাঁটাতারের ওপারে ভারতীয় ভূখণ্ডে খাল খনন করছে প্রশাসন। কাঁটাতারের ধারে পশু কিংবা মানুষ যাতে চলাচল করতে না পারে সেজন্য এই পদক্ষেপ নিচ্ছে প্রশাসন। হেমতাবাদ ব্লকের বিষ্ণুপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বামোইর এলাকায় খাল খননের কাজ শুরু হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, হেমতাবাদ ব্লকের প্রায় ২৪ কিমি এলাকাজুড়ে এই খাল খনন করা হবে। ভিবি-জি রাম-জি প্রকল্পে এই কাজ হবে।

Advertisement

রায়গঞ্জের মহকুমা শাসক তন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, বিএসএফের তরফে আবেদন করা হয়েছিল, সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তায় খাল খননের। এরপরই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে হেমতাবাদ ব্লকের সীমান্ত এলাকায় এই কাজ শুরু হয়েছে। কালিয়াগঞ্জ ও রায়গঞ্জ ব্লকের সীমান্ত এলাকাতেও এই কাজ হবে। হেমতাবাদের বিডিও বিশ্বজিৎ দত্ত বলেছেন, প্রায় ৪ কিমি খাল খনন হচ্ছে এখন। বাকি ২০ কিমিও শীঘ্রই খনন হবে। কাঁটাতারের ওপারে প্রায় পাঁচফুট চওড়া এই খাল খনন করা হচ্ছে। গভীরতা থাকবে ৫ থেকে ৮ ফুট। সীমান্তে এধরনের খাল খননের প্রয়োজনীয়তা কী? মহকুমা শাসকের বক্তব্য, এই খাল খননের একাধিক উদ্দেশ্য রয়েছে। এই খাল গবাদিপশুর চলাচল আটকাবে। বর্ষায় জমা জল জমিতে দেওয়া হবে। পাশাপাশি সীমান্তের নিরাপত্তায় ব্যবহার করা হবে খাল। 
রাজ্যে পালাবদলের পর সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা আরও জোরদার করেছে প্রশাসন। জমি সংক্রান্ত সমস্যা মিটিয়ে কাঁটাতার দেওয়ার কাজও দ্রুত গতিতে এগচ্ছে। সীমান্তের গ্রামগুলির পরিকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি নিরাপত্তা আঁটোসাটো করতে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসন ও বিএসএফ কর্তাদের আশা, এই খাল চোরাচালান ও অনুপ্রবেশ আটকাতে সাহায্য করবে।  
উত্তর দিনাজপুর জেলার সীমান্তঘেঁষা হেমতাবাদ ব্লকে অনুপ্রবেশের ঘটনা নতুন নয়। বারবার বাংলাদেশি গ্রেপ্তার হয়েছে হেমতাবাদে। মূলত অনুপ্রবেশ ঠেকাতেই এই উদ্যোগ বলে জানা গিয়েছে। হেমতাবাদের বিডিও বলেন, পুজোর আগেই এই কাজ শুরু হয়েছে। আপাতত গবাদি পশুর বিচরণ রোখা ও সীমান্তের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এই কাজ হচ্ছে। তবে আগামীতে এই খাল আরও বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হবে।