সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: বিজেপি বিধায়কের বিরুদ্ধে অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বিধানসভার অধ্যক্ষকে চিঠি খোদ কেন্দ্রীয় সরকারের। আর সেই তদন্তের মুখে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হতেই বোমা ফাটালেন দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্ণণচন্দ্র ঘোড়ুই। সেই ‘লক্ষ্মণ শেল’-এর নিশানায় রাখলেন দলের প্রভাবশালী নেতাদের। রবিবার দুর্গাপুরে রীতিমতো সাংবাদিক বৈঠক ডেকে লক্ষ্মণ সাফ জানিয়ে দিলেন—তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগই ভিত্তিহীন। তাঁকে কালিমালিপ্ত করতে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত দলের রাঘববোয়াল বা প্রভাবশালীদের একাংশ। দুর্গাপুর পশ্চিমের দু’বারের বিধায়ক দলের ‘প্রভাবশালী’ বলতে কাদের বুঝিয়েছেন, তা নিয়ে এখন তোলপাড় পশ্চিম বর্ধমান। চরম অস্বস্তিতে গেরুয়া শিবিরও।
কেন্দ্রের কর্মীবর্গ, জন অভিযোগ ও পেনশন মন্ত্রকের একটি চিঠিকে কেন্দ্র করেই ঘটনার সূত্রপাত। বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অধ্যক্ষকে লেখা ওই চিঠিটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। সেখানে বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুইয়ের বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বলা হয় অধ্যক্ষকে। অভিযোগকারীর নাম ও ফোন নম্বরও চিঠিতে উল্লেখ করে দিয়েছেন মন্ত্রকের আন্ডার সেক্রেটারি অজয় কুমার। সেটি প্রকাশ্যে আসতেই চটে লাল লক্ষ্মণ। জানা গিয়েছে, দুর্গাপুর পশ্চিমের প্রাক্তন বিজেপি নেতা ধ্রুবজ্যোতি মুখোপাধ্যায় কেন্দ্রের ওই মন্ত্রকে লক্ষ্মণের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের অভিযোগ জানিয়ে দীর্ঘ চিঠি পাঠিয়েছিলেন। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও আর্জি জানিয়েছিলেন। ধ্রুবজ্যোতিবাবু বিষয়টি স্বীকার করে দাবি করেন, ‘বিধায়ক হওয়ার পরই লক্ষ্মণচন্দ্র ঘোড়ুই বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির
মালিক হয়েছেন। তাঁর মেয়ে ছেলে ও জামাই কীভাবে
চাকরি পেলেন? এসব তদন্ত করার জন্যই আমি কেন্দ্রের
কাছে আবেদন করেছিলাম। আমার আবেদনকে যথেষ্ট
গুরুত্ব দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বিধানসভার অধ্যক্ষকে। তার প্রতিলিপি আমাকেও পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, তদন্ত হবে।’
এদিন সাংবাদিকদের লক্ষ্মণ বলেন, ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অভিযোগ। আমি ধ্রুবজ্যোতি মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া হলফনামার বাইরে আমার যদি পাঁচ লক্ষ টাকারও বেশি সম্পত্তি থাকে, তাহলে তদন্ত করে দেখা হোক। আমি শাস্তি মাথা পেতে নেব। আমার মেয়ে কোনো চাকরির সঙ্গে যুক্ত নয়। বিয়ে হয়েছে এক বছর আগে। আমার জামাই ১১ বছর ধরে ইসিএলে কর্মরত।’ এরপরই বিধায়কের বিস্ফোরক দাবি—‘আমাকে ও আমার পরিবারকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা চলছে। এটা এক গভীর ষড়যন্ত্র।’ নেপথ্যে কি বিজেপিরই প্রভাবশালী বা রাঘববোয়ালদের একাংশ? জবাবে লক্ষ্মণ বলেন, ‘অবশ্যই রয়েছে। এবং সেটা বারবার প্রমাণিত। এবারও হয়তো তাঁরা ভাবছেন, আমাকে কালিমালিপ্ত করলে কিছু লাভ হবে। কিন্তু এটা বিজেপিতে হয় না। আমাকে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব জানে।’ তাঁর বিরুদ্ধে এই চক্রান্ত পার্টির নির্দিষ্ট ফোরামে জানাবেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন লক্ষ্মণ। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে অভিযোগকারী ধ্রুবজ্যোতিকেও ছেড়ে কথা বলেননি লক্ষ্মণ। তাঁর বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ এনে তিনি বলেন,‘গোপালমাঠ এলাকায় একাধিক বেনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল ওঁর নামে। সেই কারণেই দল থেকে সাসপেন্ড করেছিলাম। তারপর থেকেই উনি আমার বিরুদ্ধে কুৎসা করছেন।’ তবে, বিধানসভার অধ্যক্ষ এখনও তাঁকে তদন্তের বিষয়ে জানাননি বলে দাবি করেছেন লক্ষ্মণ। পাশাপাশি, এটাও জানিয়ে দিয়েছেন, তদন্ত হলে তার মুখোমুখি হতে প্রস্তুতি তিনি। এদিকে, ধ্রুবজ্যোতি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আমি আশা রাখি মুখ্যমন্ত্রীও নিরপেক্ষ তদন্ত করার নির্দেশ দেবেন। আমি কোনো বেনিয়ম করে থাকলে লক্ষ্মণবাবু পাঁচ মাস শাসকদলের বিধায়ক থেকেও কেন আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেন না। ওঁর বিরুদ্ধে আমার তোলা প্রতিটি অভিযোগই সত্য।’



