নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: বকেয়া বিল ছাড়তে ঠিকাদারের কাছ থেকে ‘ঘুষ’ চাওয়ার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মাল পুরসভার চেয়ারম্যান উৎপল ভাদুড়ির বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিল জলপাইগুড়ি জেলা প্রশাসন। মাল মহকুমা শাসক শুভম কুণ্ডালকে তদন্ত করে দ্রুত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন অতিরিক্ত জেলাশাসক (উন্নয়ন) পুষ্পক রায়।
সম্প্রতি শিবরতন আগরওয়াল নামে শিলিগুড়ির এক ঠিকাদার অভিযোগ করেন, বকেয়া বিলের টাকা ছাড়তে তাঁর কাছে ঘুষ চেয়েছেন মাল পুরসভার চেয়ারম্যান এবং পুরসভার এক আধিকারিক। এনিয়ে তিনি পুলিস প্রশাসনের দ্বারস্থ হন। যদিও ঠিকাদারের তোলা অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে মাল পুরসভার চেয়ারম্যান উৎপল ভাদুড়ি সেসময় দাবি করেন, ওই ঠিকাদারের কাগজপত্রে গোলমাল রয়েছে। সেকারণে তাঁর বিল আটকে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি রাজ্য পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরে জানানো হচ্ছে।
এদিকে, মাল পুরসভার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসন খোদ মহকুমা শাসককে তদন্তের নির্দেশ দেওয়ায় বিষয়টি অন্য মাত্রা পেয়েছে। শুক্রবার বিষয়টি নিয়ে জানতে চাওয়া হলে অতিরিক্ত জেলাশাসক (উন্নয়ন) অবশ্য কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তিনি বলেন, এটা প্রশাসনিক বিষয়। এনিয়ে কিছু বলতে পারব না। মাল মহকুমা শাসক বলেন, এখনও হাতে নির্দেশের কপি পাইনি। ওই কপি পেলে বলতে পারব।
তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসনের তদন্তের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন মাল পুরসভার চেয়ারম্যান উৎপল ভাদুড়ি। তিনি বলেন, যে কেউ আমার বিরুদ্ধে একটা অভিযোগ করলেন, আর সেটাই সত্যি হয়ে গেল, এমনটা কোনওভাবে মানতে পারছি না। আমিও চাই, প্রশাসন তদন্ত করুক। সেক্ষেত্রে কোনটা সত্যি তা স্পষ্ট হবে।
অভিযোগকারী ঠিকাদারের দাবি, ২০১৭ সালে তিনি মালবাজার শহরে হাইমাস্ট ল্যাম্প লাগানোর জন্য পুরসভাকে যাবতীয় সামগ্রী সরবরাহ করেছিলেন। সেই বাবদ বিল হয় ৫০ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে ৪৫ লক্ষ টাকা পেয়েছেন তিনি। ফলে এখনও বকেয়া ৫ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা। ওই টাকার জন্য বহুবার পুরসভার দ্বারস্থ হয়েছেন। কিন্তু আজও পেমেন্ট পাননি।
শিবরতনের দাবি, বিল ছাড়তে চেয়ারম্যান ও পুরসভার অর্থ বিভাগের এক অফিসার তাঁর কাছে ঘুষ চেয়েছেন। যদিও ওই ঠিকাদারের তোলা অভিযোগ পুরোপুরি ভিত্তিহীন দাবি করে মাল পুরসভার চেয়ারম্যান বলেন, ওই ঠিকাদারের কাগজপত্র ঠিক নেই। সেটা ধরা পড়ে যাওয়ায় মিথ্যে অভিযোগ করেছেন তিনি। সরকারি নিয়ম মেনে যেভাবে কাজের বরাত পাওয়া উচিত, সেটা হয়নি। সেকারণে ওই ঠিকাদারের বকেয়া বিলের টাকা আটকে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আমরা রাজ্য পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরকেও জানিয়েছি।