নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: আবাস সমীক্ষায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইন্টারনেট। বহু জায়গাতেই ইন্টারনেট না থাকায় সমীক্ষার কাজ অসম্পূর্ণ থেকে গিয়েছে। ফিরে আসতে হয়েছে সমীক্ষক দলকে। এব্যাপারে বিভিন্ন জেলা থেকে রিপোর্ট পৌঁছয় রাজ্যে। সমস্যার সমাধানে আবাস সমীক্ষায় অফলাইন মোড চালু করছে রাজ্য। গত শনিবারই এনিয়ে জেলাগুলির সঙ্গে ভার্চুয়ালি বৈঠক করেছে রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তর। যেসব জায়গায় ইন্টারনেট নেই, সেইসব এলাকায় কীভাবে সমীক্ষার কাজ শেষ করতে হবে সেব্যাপারে নির্দিষ্ট নির্দেশিকাও দেওয়া হয়েছে।
Advertisement
প্রসঙ্গত, আবাসের সার্ভের জন্য রাজ্যের তরফে একটি অ্যাপ তৈরি করা হয়েছে। সেই অ্যাপের মাধ্যমেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে আবাস উপভোক্তাদের সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রশাসন সূত্রের খবর, সমীক্ষা করতে গিয়ে পুরুলিয়া, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, দক্ষিণ ২৪পরগনা ও শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদে ইন্টারনেট সমস্যা সামনে এসেছে। ইন্টারনেট না থাকায় শুধুমাত্র পুরুলিয়া জেলাতেই প্রায় দেড় হাজার বাড়িতে সমীক্ষা শেষ করা যায়নি এখনও। পুরুলিয়ার ঝাড়খণ্ড লাগোয়া বরাবাজার, বাঘমুণ্ডি, পুরুলিয়া-২, রঘুনাথপুর-১, রঘুনাথপুর-২, সাঁতুড়ি ব্লকের একাধিক এলাকায় ‘শ্যাডো জোন’ রয়েছে। যেখানে কোনও টেলিকম সংস্থারই নেটওয়ার্ক মেলে না। ফলে সমীক্ষা করতে গিয়েও অ্যাপ কাজ না করায় ফিরে আসতে হয়েছে কর্মীদের। পুরুলিয়ার অতিরিক্ত জেলাশাসক (জেলা পরিষদ) রানা বিশ্বাস বলেন, বিষয়টি সামনে আসতেই আমরা তা রাজ্যের কাছে রিপোর্ট করি। জানতে পারি, শুধু পুরুলিয়া জেলাতেই নয়, আরও বেশ কয়েকটি জেলাতেও সমীক্ষা করতে গিয়ে একই সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে সমীক্ষক দলকে।
জেলা প্রশাসন সূত্রের খবর, বিষয়টি জানতে পেরেই নড়েচড়ে বসে নবান্ন। কীভাবে সেইসব ‘শ্যাডো জোনে’ সমীক্ষার কাজ সম্পন্ন হবে তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু হয়। তারপরই গত শনিবার এনিয়ে জেলাগুলির সঙ্গে বৈঠক হয় পঞ্চায়েত দপ্তরের। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, শ্যাডো জোনে থাকা উপভোক্তাদের বাড়িতে ফের যাবে সমীক্ষক দল। জিপিএস ক্যামেরায় উপভোক্তাদের বাড়ির ছবি তোলা হবে। তাতে সেই এলাকার নির্দিষ্ট অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ পাওয়া যাবে। সেইসঙ্গে বাড়ি প্রাপকের সমস্ত তথ্যও সংগ্রহ করা হবে। তারপর সেইসব তথ্য নির্দিষ্ট পোর্টালে আপলোড করা হবে।’ চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এই কাজ শেষ করতে চাইছে রাজ্য। আবাস যোজনার সার্ভের পর অযোগ্য উপভোক্তাদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। সেই তালিকায় পুরুলিয়া জেলাতেই প্রায় ৩০হাজার উপভোক্তাকে ‘অযোগ্য’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। যদিও আবাস যোজনার যাচাইয়ে মুখ্যমন্ত্রী‘মানবিক’ হওয়ার বার্তা দিয়েছেন। তাই অযোগ্যদের তালিকা ধরেই পুনরায় ‘সুপার চেকিং’ শুরু করেছে জেলা প্রশাসন ও পুলিসের আধিকারিকরা।



