Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

ময়দানের গড়াপেটার সঙ্গে জড়িয়ে আন্তর্জাতিক চক্রও

গড়াপেটা ময়দানের পুরোনো রোগ। চোখের পলকে বদলে যায় সমীকরণ। বটতলার আলো-আঁধারিতে ফিসফাস। পয়েন্ট দেওয়া-নেওয়ার খেলা দানা বাঁধে।

ময়দানের গড়াপেটার সঙ্গে জড়িয়ে আন্তর্জাতিক চক্রও
  • ১৫ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

গড়াপেটা ময়দানের পুরোনো রোগ। চোখের পলকে বদলে যায় সমীকরণ। বটতলার আলো-আঁধারিতে ফিসফাস। পয়েন্ট দেওয়া-নেওয়ার খেলা দানা বাঁধে। মোবাইল ফোন কিংবা নেটযুগের আগেও নিখুঁত অঙ্কে চলত অপারেশন। কেমন ছিল সেসব দিন? এই নিয়েই বর্তমানের অন্তর্তদন্তের আজ অন্তিম কিস্তি।

Advertisement

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ফোনটা বেজে যাচ্ছিল বারবার। অচেনা নম্বর দেখে প্রথমে গা করেননি মাঝারিমানের সেই ফুটবলার। পরে, কিছুটা বিরক্ত হয়ে হ্যালো বলতেই পরিচিত ফুটবল এজেন্টের গলা ভেসে আসে। খেপের মাঠে আকাশ দাসের দর প্রচুর। পয়সা খরচ করে জলের মতো। টাকার বান্ডিল সিনগার্ডের ভিতর লুকিয়ে খেলতে নামতেন নাইজেরিয়ান ফুটবলাররা। সেদিন অবশ্য ম্যাচের প্রস্তাব দেননি আকাশ। বরং দেখা করতে বলেছিলেন বিমানবন্দর এলাকার এক হোটেলে। অন্য আঁচ পেয়ে এড়িয়ে যান অভিজ্ঞ সেই ফুটবলার। কিন্তু ‘টোপ’ গিলে ফেঁসে যান আরেকজন। পরের দৃশ্য আরও নাটকীয়। হোটেলের ঘরে গড়াপেটার প্রাথমিক প্রস্তাব দেন আকাশ। পরে ভিডিও কলে টাকার অঙ্ক ধার্য করেন মুখঢাকা এক রহস্যময় ব্যক্তি। ইংরেজিতে কথা বলতেন তিনি। তা বাংলায় তর্জমা করে দিতেন আকাশ। ঘরোয়া লিগে ফিক্সিংয়ের অভিযোগে ইতিমধ্যেই আকাশ সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ। যার শিকড় লুকিয়ে অনেক গভীরে। 
ময়দানে গড়াপেটার অভিযোগ নতুন নয়। কিন্তু ফিক্সিংয়ে লক্ষ লক্ষা টাকার হাতবদল একেবারেই টাটকা। কারা কোন স্বার্থে টাকা ঢালছেন? উদ্দেশ্যই বা কী? অন্তর্তদন্তে চোখ কপালে ওঠার জোগাড়। সূত্রের খবর গোয়া, দিল্লি, কেরলেও সক্রিয় বেটিং চক্র। প্রতিবেশী বাংলাদেশ, নেপালেও ফিক্সিংয়ের রমরমা। গড়াপেটা কাণ্ডে আন্তর্জাতিক যোগ থাকার সম্ভাবনা প্রবল। কালো টাকা সাদা করার লাভজনক পদ্ধতি। এক্ষেত্রে আকাশ, সুজয়দের কার্যত আড়কাঠি হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে। মোটা কমিশনের ভিত্তিতে ডিল সারতেন তাঁরা। ফুটবলার বাছাই করে ফিক্সিংয়ের অফার দিতেন আকাশরা। পরে ভিডিও কল মারফত ডিল ফাইনাল হত। একাধিক বেটিং আপে ঘরোয়া লিগের ম্যাচের লিঙ্ক আপলোড করার প্রমাণও মিলেছে। ঘরোয়া লিগে বেশিরভাগ ক্লাবেরই আর্থিক অবস্থা সঙ্গীন। মোটা টাকার টোপে আকাশের দলগঠনের প্রস্তাব তাদের কাছে হাতে চাঁদ পাওয়ার মতো। পদ্মাপারে একটি ক্লাবে ইনভেস্টর জোগাড়ের লোভ দেখিয়ে ফাঁদ পাতেন আকাশ। ব্যবসা জমে ওঠার আগেই অবশ্য ভেস্তে যায় পরিকল্পনা। শোনা যাচ্ছে, ইতিমধ্যেই পুলিশের তালিকায় আরও বেশ কিছু নাম জ্বলজ্বল করছে। সেক্ষেত্রে গ্রেপ্তারির সংখ্যা বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ