নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: খড়্গপুর-১ ব্লকের খেলাড় গ্রাম্য কৃষি উন্নয়ন সমবায় সমিতির উদ্যোগে ও পশ্চিম মেদিনীপুর রেঞ্জ কো-অপারেটিভ ইউনিয়নের ব্যবস্থাপনায় শনিবার ১০৩তম আন্তর্জাতিক সমবায় দিবস উদ্যাপিত হল। সেইসঙ্গে আন্তর্জাতিক সমবায় সঙ্ঘ ঘোষিত ‘সমবায় বর্ষ-২০২৫’ পালন করা হয়। এই কর্মসূচিতে পিংলার বিধায়ক অজিত মাইতি, বিধায়ক দীনেন রায় সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
বিধায়ক অজিত মাইতি বলেন, খেলাড় গ্রাম্য কৃষি উন্নয়ন সমিতি সবসময় মানুষের পাশে থাকে। এই সমিতি থেকে কৃষকরা অল্প সুদে ঋণ পেয়ে উপকৃত হন। এই সমিতির পাশে সবসময় রয়েছি।
২০১১সালের পর এই সমবায় সমিতির কাজের গতি দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিকাঠামোর আমূল পরিবর্তনও হয়েছে। সমবায় সমিতির চেয়ারম্যান কিঙ্করচন্দ্র বসু ও খড়্গপুর-১ পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি নবকুমার দাস বলেন, মানুষের পাশে থাকাই আমাদের মূল কর্তব্য। সবার সহযোগিতা ছাড়া এই সমিতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হতো না।
১৯০৪ সালে ভারতবর্ষে প্রথম সমবায় আইন চালু হয়। তার পরেরবছর খেলাড় গ্রাম্য কৃষি উন্নয়ন সমবায় সমিতি গঠিত হয়। প্রথমদিকে অল্পসংখ্যক উপভোক্তা নিয়েই এই সমবায় সমিতি কাজ শুরু করে। একসময় অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার ঝাড়গ্রামের বেলিয়াবেড়া কোঅপারেটিভ ব্যাঙ্ক, মেদিনীপুর কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক ও খেলাড়-বলরামপুর কোঅপারেটিভ ব্যাঙ্ক একত্রিত হয়ে বিদ্যাসাগর সেন্ট্রাল কোঅপারেটিভ ব্যাঙ্ক তৈরি হয়। সেই কোঅপারেটিভ ব্যাঙ্কের অধীনেই এই সমিতি কাজ করে। ২০১১ সালের পর থেকে এই সমবায় সমিতির পরিকাঠামোগত পরিবর্তন শুরু হয়। বর্তমানে সমিতির উদ্যোগে কম সুদে ঋণদান ছাড়াও ন্যায্যমূল্যে কৃষকদের সার দেওয়া হয়। সমিতির উদ্যোগে ফসল রাখার গোডাউন তৈরি হয়েছে। সেখানে প্রায় ১০হাজার মেট্রিক টন ফসল রাখা সম্ভব। সমবায় সমিতির উদ্যোগে কৃষি সরঞ্জামও দেওয়া হয়ে থাকে।
সমবায় সমিতির এক সদস্য বলেন, ব্রিটিশ আমলেই সমবায় সমিতির সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। এখন প্রচুর উপভোক্তা রয়েছেন। নতুন অর্থবর্ষে সমবায় সমিতির তরফে নানা জনমুখী প্রকল্প রূপায়ণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সমবায় সমিতির আমানতের পরিমাণও কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। পেশায় শিক্ষক তথা বিদ্যাসাগর সেন্ট্রাল কোঅপারেটিভ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন ডিরেক্টর অনুপম মাইতি বলেন, এই সমবায় সমিতি সারাবছর ধরেই মানুষের পাশে থাকে। আগামী দিনে উপভোক্তার সংখ্যা আরও বাড়বে।-নিজস্ব চিত্র