নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়ায় গভীর নিম্নচাপের জেরে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস ছিলই। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার দিনভর সেই পূর্বাভাস সত্যি হল! হাওড়া, হুগলি ও দুই ২৪ পরগনা জেলার বিস্তীর্ণ অংশ জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। কলকাতা লাগোয়া শহরতলির বাসিন্দাদের দিনভর জমা জলের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। গ্রামের দিকে ধান, সব্জির জমি জলমগ্ন হয়ে পড়ায় লোকসানের আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
সমগ্র দক্ষিণবঙ্গেই বৃষ্টি চললেও উপকূলবর্তী দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোসাবা সহ বেশ কিছু অংশে বৃষ্টির দাপট ছিল অনেক বেশি। জেলা কৃষিবিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোসাবায় বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ১০০ মিমি (মিলিমিটার) বৃষ্টিপাত হয়েছে। সাগরদ্বীপে এই সময় বৃষ্টি হয়েছে ৫১ মিমি। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া থাকার কারণে শুক্রবার সকালে উপকূলে মাইকিং করে বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়। সমুদ্রে বেশিক্ষণ থাকতে দেওয়া হয়নি পর্যটকদের। সাগর থেকে গোসাবা—সর্বত্র ধানের বীজতলার ক্ষতি হয়েছে। শুক্রবার দিনভর বৃষ্টিতে মহেশতলা, বজবজ ট্রাঙ্ক রোডের খানাখন্দ ভর্তি রাস্তায় জল জমে যায়। রায়পুর থেকে চড়িয়াল যাওয়ার রাস্তাও জলমগ্ন ছিল।
উত্তর ২৪ পরগনার বারাকপুর শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় জল দাঁড়িয়ে যায় টানা বৃষ্টিতে। কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের ধারে, ভাটপাড়া পুরসভার মাদরাল এলাকা, বারাকপুর পুরসভার বিভিন্ন জায়গা, শিউলি, মোহনপুর পঞ্চায়েত এলাকার বিস্তীর্ণ অংশে জল জমে থাকে শুক্রবার সারাদিন। পুরসভাগুলি পোর্টেবল পাম্প বসিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বনগাঁ মহকুমাতেও কমবেশি একই অবস্থা। সিঁথির মোড় থেকে বারাকপুরগামী বি টি রোডের জায়গায় জায়গায় জল জমে যায়। ঘোষপাড়া মোড়, বরানগর থানা, টবিন রোড মোড়, বনহুগলি মোড়ে বি টি রোড দিনভর জলের তলায় ছিল। কামারহাটি পুরসভা এলাকায় বি টি রোড ছাড়াও ফিডার রোড, দক্ষিণেশ্বর, আড়িয়াদহ, নওদাপাড়া, প্রফুল্লনগর, দেশপ্রিয় নগর সহ বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন। পানিহাটি স্টেট জেনারেল হাসপাতালের ইমার্জেন্সি সহ একাধিক বিভাগে জল ঢুকে যায়। ঘোলা থানার নীচের তল জলে কার্যত ডুবে গিয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণ দমদম ও দমদম পুরসভা এলাকার বিভিন্ন এলাকার জল জমার সমস্যা প্রকট হয়েছে।
শুক্রবার ভোররাত থেকে টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে হাওড়া শহরের জনজীবন। চরম নাকাল হতে হয়েছে নিত্যযাত্রী থেকে সাধারণ মানুষকে। উত্তর হাওড়ার অধিকাংশ ওয়ার্ডই জলমগ্ন। গলিতেও কোথাও কোথাও কোমরসমান জল দাঁড়িয়ে যায়। ঘুষুড়ির লস্করপাড়া রোড, নবীন ঘোষ লেন, লালবিহারী বোস লেন, মৈনাথ পোড়েল লেনে বহু বাড়ির ভিতর ঢুকে পড়েছে জল। টি এল জয়সওয়াল হাসপাতালের সামনের অংশে দিনভর জমা জলে নাকাল হতে হয়েছে রোগী ও আত্মীয়দের। সালকিয়া ঘোষপাড়া, অরবিন্দ রোড, বেনারস রোডে বাস, অটোর ভিতরে ঢুকে পড়েছে জমা জল। একই অবস্থা বেলুড় স্টেশন, বেলুড় স্টেট জেনারেল হাসপাতালের সামনের অংশেও। স্থায়ী-অস্থায়ী মিলিয়ে ৭০টি পাম্প চালিয়ে জমা জল নামানোর চেষ্টা চালাচ্ছে পুরসভা। কিন্তু গঙ্গার জলস্তর উঁচু থাকায় লকগেট খোলা যাচ্ছে না। ফলে জল সরানো নিয়ে উদ্বিগ্ন হাওড়া পুরসভা। এদিন সকাল থেকে দফায় দফায় বৃষ্টির ফলে হুগলি জেলার বিভিন্ন অংশেও জনজীবন কমবেশি ব্যাহত হয়েছে। তবে ট্রেন বা বাস চলাচলে কোথাও কোনও সমস্যা হয়নি।