Bartaman Logo
৭ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

একাঙ্গী চাষে লক্ষ্মীলাভ, আগ্রহ বাড়ছে মুর্শিদাবাদের চাষিদের

মুর্শিদাবাদের চাষিরা একাঙ্গী চাষে লাভের মুখ দেখছেন। বাজারে চাহিদা বাড়ায় আগ্রহ বেড়েছে। বিস্তারিত পড়ুন।

একাঙ্গী চাষে লক্ষ্মীলাভ, আগ্রহ বাড়ছে মুর্শিদাবাদের চাষিদের
  • ৭ জুন, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: রাজ্যে যে সমস্ত ভেষজ উদ্ভিদ অল্পবিস্তর চাষ হয়, তার মধ্যে একাঙ্গী অন্যতম। বর্তমানে অর্থকরী ফসল হিসাবে একাঙ্গী চাষ করে লাভের মুখ দেখছেন রাজ্যের কৃষকরা। বিশেষত, মুর্শিদাবাদ জেলার বিভিন্ন প্রান্তে একাঙ্গী চাষ করা হচ্ছে। নানা আয়ুর্বেদিক গুণসম্পন্ন এই ফসল সুগন্ধি আদা, বালি আদা বা চন্দ্রমূলী নামেও পরিচিত। মুর্শিদাবাদ ছাড়াও দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, নদীয়া, দক্ষিণ দিনাজপুর, হুগলি, বীরভূম জেলাতেও এখন একাঙ্গী চাষ হয়। লাভের মুখ দেখায় একাঙ্গী চাষে কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বেড়ে চলেছে। একাঙ্গীর ভূ-নিম্নস্থ এবং সুগন্ধযুক্ত কন্দে উদ্বায়ী তেল(এসেনশিয়ার অয়েল), বিভিন্ন জৈব অ্যাসিড ও অ্যালকালয়েড থাকে। কিছুটা দীর্ঘমেয়াদী ফসল হলেও উচ্চ ফলনহার থাকায় এই ভেষজ উদ্ভিদ রোপণ করে অনেকেই ভালো আয় করেছেন। এই ফসলে রোগ-পোকার আক্রমণ কমই হয়। ছায়াযুক্ত জমিতেও এই গাছের মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা আছে। নিশ্চিত বাজার এবং ভালো দাম থাকার কারণে এরাজ্যে খরিফ মরশুমে একাঙ্গী চাষ হয়। উন্নত ও বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতিতে চাষ করলে আরো লাভের সুযোগ রয়েছে বলে কৃষিবিজ্ঞানীরা মনে করছেন। তাঁরা জানান, জলনিকাশির সুবিধা এবং উর্বর জৈব পদার্থযুক্ত গভীর, ঝুরঝুরে হালকা বেলে-দোঁয়াশ ও দোঁয়াশ মাটি একাঙ্গী চাষের জন্য উপযুক্ত। একাঙ্গী চাষে গাছের গোড়ায় জল জমতে দেওয়া যাবে না। তবে মাটি ভেজা থাকা দরকার। আবার, একই জমিতে বারবার একাঙ্গী চাষ করা ঠিক নয়। এটা চাষিদের জন্য একটু অসুবিধাজনক। রজনী, কস্তুরী জাতের একাঙ্গী চাষে চাষিরা বেশি লাভ করতে পারেন। কৃষি বিশেষজ্ঞরা জানালেন, একাঙ্গীতে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট থাকে। বিভিন্ন ঔষধি গুণও রয়েছে। এটি বেদনানাশক, অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল, প্রদাহনাশক, যন্ত্রণাহর, কৃমিনাশক ও লার্ভানাশক। ওষুধ তৈরি ছাড়াও একাঙ্গী মাছ ধরার চারা হিসাবে ব্যবহার করা হয়। একাঙ্গী মশা-মাছি তাড়ানোর ওষুধ, সুগন্ধি এবং মশলা তৈরিতেও ব্যবহৃত হয়। এর কন্দ থেকে পাওয়া যায় ক্যাম্ফেরল, যা ফুসফুস এবং অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়। এর কন্দ থেকে প্রাপ্ত তেল বাতের ব্যথা ও জ্বর উপশমে ব্যবহার হয়। ক্ষত নিরাময়ে এবং প্রসাধনী শিল্পেও এর ব্যবহার দেখা যায়। এখন মুর্শিদাবাদে যে কয়েকটি ভেষজ উদ্ভিদের চাষ হচ্ছে, তার মধ্যে একাঙ্গী অন্যতম। বৈশাখ-জৈষ্ঠ মাস কন্দ বপনের আদর্শ সময়। বীজ বোনার সাত-আট মাস পরে পাতা শুকাতে শুরু করলে কন্দ তোলার উপযুক্ত হয়। বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে উন্নত জাতের ফসল চাষ করলে বিঘা প্রতি দু’হাজার থেকে ২২০০কেজি অবধি কাঁচা একাঙ্গী কন্দ পাওযা যায়। যা থেকে প্রায় ৫৫০-৬৫০কেজি শুকনো মূল পাওয়া সম্ভব। তা বাজারে ভালো অংকের টাকায় বিক্রি করতে পারেন চাষিরা। বহরমপুরের এক চাষি বলেন, আটমাস ধরে জমিতে ফেলে রাখতে হয় বলে অনেক চাষি এটা লাগাতে চাইতেন না। কিন্তু বাজারে এর ভালো চাহিদা রয়েছে। তাই ফসল বিক্রি নিয়ে কোনো চিন্তা হয় না। ভালো দাম পাওয়া যায়। তাই অনেক বুদ্ধিমান চাষি বছরে একটি ফসলের পাশাপাশি কিছুটা জমিতে একাঙ্গী চাষ করে ব্যাপক মুনাফা করছেন। বিক্ষিপ্তভাবে হলেও আগের তুলনায় একাঙ্গী চাষের জমির পরিমাণ বেড়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ