নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি। বাংলার ক্ষমতা দখলের জন্য চেষ্টায় কোনও ত্রুটি রাখছে না তারা। কিন্তু গেরুয়া শিবিরের সেই স্বপ্ন কি এবারও বিফল হতে চলেছে? রাজনৈতিক মহলে এমন জল্পনা জোরদার হওয়ার কারণ, এবার বিধানসভা ভোটে বিজেপির টিকিট পাওয়ার জন্য তেমন কোনও আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। সূত্রের খবর, ‘রেজিমেন্টেড’ দলের নির্দিষ্ট রুটিন মেনে ইতিমধ্যে যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ শুরু করে দিয়েছে বিজেপি। কিন্তু সবটাই হচ্ছে কার্যত দায়সারাভাবে। পার্টির ৪৩টি সাংগঠনিক জেলার সভাপতিকে বিধানসভা পিছু তিনটি করে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম পাঠাতে বলেছিল রাজ্য নেতৃত্ব। অর্থাৎ, সব মিলিয়ে ২৯৪টি কেন্দ্রের জন্য ৮৮২ জনের নাম চাওয়া হয়। সূত্রের দাবি, সেই তালিকা ইতিমধ্যে জমাও পড়েছে। তা নিয়ে বিশ্লেষণ ও কাঁটাছেঁড়া করতে গিয়ে বিজেপি নেতৃত্ব দেখছে, অনেক ক্ষেত্রে এমন সব নাম এসেছে, তাঁদের এলাকার সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা, দলের অনেক সক্রিয় সমর্থকও চেনেন না। অথচ পাঁচ বছর আগের চিত্রটা ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। সেবার বিধানসভা নির্বাচনের কয়েক মাস আগে থেকেই তুমুল উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গিয়েছিল গেরুয়া শিবিরে। দিকে দিকে চলছিল বিজেপির ‘যোগদান মেলা’। স্বভাবতই বিজেপির টিকিটে বিধানসভা নির্বাচনে লড়ার জন্য লাইন পড়ে গিয়েছিল। বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতা দখলের কাছাকাছি এসে গিয়েছে
ভেবে ‘দলবদলু’ নেতা-নেত্রীদের পাশাপাশি টিকিট পেতে নেতা-নেত্রীদের লাইন পড়ে গিয়েছিল জেলায় জেলায়। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে দলের টিকিট-প্রত্যাশীদের আবেদন জমা নেওয়ার জন্য নজিরবিহীনভাবে একটি ‘ড্রপ বক্স’ বসানো হয়েছিল সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ে বিজেপির তৎকালীন সদর কার্যালয়ে। এবার যে সেই উন্মাদনার নামগন্ধও নেই, একান্তে স্বীকার করে নিচ্ছেন দলের রাজ্যস্তরের একাধিক নেতা-নেত্রী।
দলের এক প্রবীণ নেতা বলছিলেন, ‘গতবার টিকিট বিলি নিয়ে চরম নৈরাজ্য তৈরি হয়েছিল। প্রতিদিন বিভিন্ন দল থেকে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী বিজেপির পতাকা হাতে নিচ্ছিলেন। বিষয়টি এমন উচ্চগ্রামে পৌঁছেছিল দল এই পর্বকে যোগদান মেলা বলে অভিহিত করতেও দু’বার ভাবেনি। পরবর্তীতে দেখা যায়, চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় দলবদলু ও তৎকাল নেতা-নেত্রীদেরই ভিড়। ফলস্বরূপ ২০০ আসন জিতে ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে ৭৭-এ গিয়ে ঠেকে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এবার ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি কিংবা শেষদিকে ভোট ঘোষণা হবে। এটা স্বীকার করতে দ্বিধা নেই, সমস্ত কেন্দ্রে যোগ্য প্রার্থীর অভাব রয়েছে আমাদের। তাই এক-একটি আসনের জন্য এক গুচ্ছ নামের তালিকা তৈরি হচ্ছে। সেই সূত্রেই জেলা সভাপতিদের থেকে তিনটি করে নাম চাওয়া হয়েছিল। এরপর ভোটকুশলী সংস্থা সহ আরও কয়েকটি তালিকা জমা পড়বে। তার মধ্যে থেকেই হবে চূড়ান্ত প্রার্থী বাছাই।’