নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: পুরনো ও নতুন ইজারাদারের ঝামেলায় বন্ধ তালপাটি থেকে কাকদ্বীপ ভায়া কচুবেড়িয়া আন্তঃ জেলা ফেরি সার্ভিস। ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা। অনলাইন নিলামে ফেরিঘাটের ইজারা পেতে দুই ঠিকাদারের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ২৭লক্ষ থেকে দর উঠেছিল ৪৩ লক্ষ পাঁচ হাজার টাকা। সর্বোচ্চ ইজারাদারকে ঘাট চালানোর ছাড়পত্র দেওয়ার পরই গণ্ডগোল শুরু। ওই ঘটনায় দু’দিন ধরে খেজুরি-২ ব্লকের অন্তর্গত তালপাটি থেকে কাকদ্বীপ ভায়া কচুবেড়িয়া ফেরি সার্ভিস বন্ধ। ফেরি পারাপারের জন্য দুই পাড়ে অসংখ্য যাত্রী উপস্থিত হলেও তাঁরা যাতায়াত করতে পারছেন না।২০০৮ সাল থেকে টানা ১৭ বছর তালপাটি-কাকদ্বীপ ভায়া কচুবেড়িয়া ফেরিঘাটে ইজারাদার ছিলেন শেখ আবুল হাসান। জোয়ারের সময় সারাদিনে একবার লঞ্চ ছাড়ে। মাথাপিছু একশো টাকা ভাড়া। হুগলি মোহনা, বঙ্গোপসাগর ছুঁয়ে দুই জেলার মধ্যে ওই ফেরি পরিষেবা চলে। ২০২৪ সালে আবুল সাহেব বার্ষিক ২৭ লক্ষ টাকার বিনিময়ে জেলা পরিষদ থেকে লিজ নিয়ে ওই ঘাট চালাচ্ছিলেন।
এবছর প্রথম জেলা পরিষদ ফেরিঘাটের ইজারা দিতে অনলাইন নিলাম প্রক্রিয়া চালু করে। জেলা পরিষদের অধীনে সব ফেরিঘাট অনলাইন অকশনেব মাধ্যমে ইজারাদার বাছাই করা হয়েছে। এর ফলে রাজস্ব অনেকটাই বেড়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর-দক্ষিণ ২৪ পরগনার মধ্যে সংযোগকারী ওই ফেরিঘাটের ইজারা পেতে দু’জনের মধ্যে বিরাট প্রতিযোগিতা হয়। একদিকে, পুরনো ইজারাদার আবুল সাহেব এবং অন্যদিকে, নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের চম্পাইনগর গ্রামের খাইরুল বাসার খানের সঙ্গে ইজারা নিয়ে নিলামে প্রতিযোগিতা চলে। এক বছর খেয়া চালানোর জন্য ২৭ লক্ষ টাকা থেকে বেড়ে ৪৩ লক্ষ টাকায় পৌঁছে যায়। খাইরুল সাহেব ৪৩ লক্ষ পাঁচ হাজার টাকার ডাক দিয়ে শেষমেশ ফেরিঘাটের ইজারা পান।
গত ১৯ এপ্রিল জেলা পরিষদ নতুন ইজারাদার খাইরুল সাহেবকে ফেরিঘাট চালানোর অনুমতিপত্র তুলে দেয়। তাঁর নিজস্ব লঞ্চ কিংবা নৌকা নেই। এই অবস্থায় তিনি পুরনো ইজারাদার আবুল সাহেবের কাছ থেকে জোড়া লঞ্চ ভাড়ায় নেন। এরমধ্যেই দু’জনের মধ্যে ঝামেলা শুরু হয়। নতুন ইজারাদারের অভিযোগ, পুরনো ইজারাদার লঞ্চ দিতে রাজি না হওয়ায় ফেরি সার্ভিস বন্ধ রাখা হয়েছে। বিষয়টি তালপাটিঘাট কোস্টাল থানা, জেলা পরিষদে জানানো হয়েছে। শনি ও রবিবার ফেরি সার্ভিস বন্ধ। আজ, সোমবার থেকে পরিষেবা সচল রাখার চেষ্টা করা হবে।
যদিও পুরনো ইজারাদার আবুল সাহেব বলেন, আমি ১৭ বছর ধরে এই ঘাটের ইজারা নিয়ে পরিষেবা দিয়ে এসেছি। আন্তঃ জেলা এই ফেরি সার্ভিস জোয়ারের উপর নির্ভরশীল। দিনে একবার খেয়া পারাপার হয়। কলকাতা পোর্ট ট্রাস্ট থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে আমরা লঞ্চ চালনা করি। নতুন ইজারাদার কোনওরকম এগ্রিমেন্ট ছাড়াই আমার জোড়া লঞ্চ নিয়ে পরিষেবা দেওয়া শুরু করেছিলেন। তাঁর নিজের কোনও জলযান নেই। অগ্রিমেন্ট ছাড়া আমি লঞ্চ ভাড়ায় দিতে নারাজ। তাই শনিবার থেকে লঞ্চ চলাচল বন্ধ।