দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: সোমবার রাজ্যসভায় সাধারণ বাজেটের উপর আলোচনায় বাংলার বকেয়া ইস্যুতে তীব্র বিতণ্ডায় জড়াল তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি। এদিন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সুস্মিতা দেব এবং বিজেপির এমপি শমীক ভট্টাচার্যের মধ্যে তুমুল বাদানুবাদ হয়। রাজ্যের শাসক দলের সাংসদ সোমবার রাজ্যসভায় অভিযোগ করেছেন যে, বাংলার প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা বকেয়া এখনও মেটায়নি কেন্দ্রের মোদি সরকার। এর মধ্যে শুধুমাত্র ১০০ দিনের কাজ বা মনরেগা প্রকল্পেই প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকা রাজ্যকে মেটানো বাকি রয়েছে। এর প্রতিবাদেই তেড়েফুঁড়ে ওঠেন বঙ্গ বিজেপির সাংসদ শমীকবাবু। আসনে দাঁড়িয়েই তৃণমূল সাংসদের মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। বিজেপির দিকে পালটা কটাক্ষ ধেয়ে আসে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যান্য সাংসদের কাছ থেকে। রাজ্যের বকেয়ার পাশাপাশিই সাধারণ বাজেটের উপর আলোচনায় এদিন এসআইআর ইস্যুতেও রাজ্যসভায় সোচ্চার হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। সুস্মিতা দেবের অভিযোগ, এসআইআরের মাধ্যমে আদতে ঘুরপথে এনআরসি কার্যকরের চেষ্টা করছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। কিন্তু শেষমেশ এটি বিজেপিকেই ‘ব্যাকফায়ার’ করবে। তৃণমূল সাংসদের এহেন মন্তব্যের প্রতিবাদেও সরব হন বিজেপি সাংসদ। সোমবার রাজ্যসভায় সুস্মিতা দেব বলেন, বাংলার কয়েক লক্ষ কোটি টাকা বকেয়া রেখেছে কেন্দ্র। তা কোনোভাবেই মেটানো হচ্ছে না। বকেয়া মেটানোর ইস্যু তুললেই অভিযোগ করা হচ্ছে যে, রাজ্যে নাকি দুর্নীতি হয়েছে। কোথায় হয়েছে? কেন্দ্র বকেয়া না মেটালেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের এক্তিয়ারের মধ্যে থেকে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ৫০ দিনের কর্মশ্রী দিয়েছেন। পিএম আবাস যোজনায় বাংলা বঞ্চিত থাকলেও বাংলার বাড়ি প্রকল্পে রাজ্যের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েক সরকার। জলের স্বপ্ন কর্মসূচিতে এসংক্রান্ত সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করা হয়েছে। রাজ্যসভার বাজেট আলোচনায় তৃণমূল সাংসদ বলেছেন, সারা দেশের ছবি আলাদা। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে বেকারত্বের হার ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী হিসাবে একটানা ন’বার নির্মলা সীতারামনের সাধারণ বাজেট পেশকেও এদিন তীব্র কটাক্ষ করতে ছাড়েনি রাজ্যের শাসক দল। তৃণমূল এমপির অভিযোগ, ছ’টি বাজেট হয়ে গেল কোনোরকম জনগণনা ছাড়াই। অর্থাৎ, রাজা জানেই না যে, তাঁর দেশে প্রজার সংখ্যা কত! এমনকি ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারগুলিকেও হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ নিতে হচ্ছে। কেন?



