সংবাদদাতা, বসিরহাট: দোকান তোলাকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এল। ঘটনাটি বসিরহাট পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের। প্রায় চার দশক ধরে বসিরহাট ১ নম্বর ব্লকের বিডিও অফিসের কাছে ড্রেনের উপর কিছু ব্যবসায়ী দোকান চালাতেন। সেই জায়গা খালি করে দেওয়ার নির্দেশ দেন বসিরহাট পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার। ব্যবসায়ীরা দোকান তুলতে রাজি ছিলেন না। তাঁদের পাশে দাঁড়ান বসিরহাট পুরসভার চেয়ারম্যান অদিতি মিত্রর স্বামী সুরজিৎ মিত্র। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। এরপর সেখানে অস্থায়ীভাবে দোকান চালাতে থাকেন বেশকিছু দোকানদার।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সেখানে একটি চায়ের দোকানে আসেন বসিরহাট তৃণমূলের টাউন সভাপতি অভিজিৎ ঘোষ। তিনিও ব্যবসায়ীদের পাশেই দাঁড়িয়েছিলেন। সেই সময় কাউন্সিলার ও কাউন্সিলারের প্রতিনিধি সহ একাধিক মহিলা ও বেশ কিছু অনুগামী সেখানে আসেন।
অভিযোগ, কথা কাটাকাটির মাঝে টাউন সভাপতি অভিজিতের উপর হামলা চালায় কাউন্সিলারের অনুগামীরা। তিনি লুটিয়ে পড়েন। এরপর বসিরহাট সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে আহত হন এক ব্যবসায়ী, তাকেও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাকেও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। আহত টাউন সভাপতি অভিজিৎ ঘোষ বলেন, আমি কিছু বুঝে ওঠার আগে বেশ কিছু দুষ্কৃতীরা এসে আমার উপর হামলা চালায় এবং মারধর করা হয়।
অন্যদিকে, বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেন কাউন্সিলার প্রতিনিধি অরিন্দম গোলদার। তিনি বলেন, টাউন সভাপতি এবং তার দলবল আচমকা আমার উপর হামলা চালায়। ওরা মদ্যপ অবস্থায় বসেছিল। আমার উপর হামলা চালিয়েছে। কাউন্সিলার মনিকা সোম গোলদারকেও রেয়াত করা হয়নি। তাঁর উপরেও হামলা চালায় অভিজিৎ ঘোষের দলবল। বসিরহাট জেলার বিজেপি যুব সভাপতি পলাশ সরকার বলেন, তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে ব্যবসায়ীদের রোজগার বন্ধ হচ্ছে। আমরা চাই, পুলিস নিরপেক্ষ তদন্ত করে ব্যবস্থা নিক। বসিরহাট দক্ষিণের বিধায়ক সপ্তর্ষি বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নেই। আমি পুলিসকে জানিয়েছি, যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক পুলিস। নিজস্ব চিত্র