সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: সোমবার নিতুড়িয়ার পারবেলিয়া সরস্বতী ক্লাবের গণেশপুজোর খুঁটিপুজো হল। এদিন পারবেলিয়া ইসিএল মাঠে খুঁটিপুজোর মধ্য দিয়ে মণ্ডপ তৈরির কাজ শুরু হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ইসিএলের সোদপুর এরিয়ার জিএম জেপি সিং, এলাকার একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের ম্যানেজার সুনীল সিং, নিতুড়িয়া পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তথা পুজো কমিটির কনভেনর শান্তিভূষণ প্রসাদ যাদব, পঞ্চায়েত প্রধান অতনু চক্রবর্তী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এদিনের অনুষ্ঠান থেকে পুজো মণ্ডপের থিম ঘোষণা করা হয়। নেপাল দেশের জানকী মন্দিরের আদলে এবার গণেশ পুজোর মণ্ডপ হবে। বৃষ্টিকে উপেক্ষা করেই জোর কদমে কাজ চলবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নিতুড়িয়া ব্লকের পারবেলিয়া হিন্দিভাষীদের এলাকা। নিতুড়িয়ার প্রাক্তন ব্লক তৃণমূল সভাপতি শশীভূষণ প্রসাদ যাদবের উদ্যোগে ১৯৯৮-’৯৯ সালে ক্লাবের সদস্যদের নিয়ে নিতুড়িয়ায় গণেশ পুজোর সূচনা করেন। ২০১০ সালের ২৯ মার্চ শশীভূষণবাবুকে গুলি করে খুন করা হয়। তারপর থেকে শশীভূষণবাবুর তৈরি করা ক্লাবের সদস্যরা সেই পুজো করে আসছেন। বর্তমানে এই পুজো জেলার সবচেয়ে বড় গণেশ পুজো। পুজো দেখতে জেলার মানুষ ছাড়াও বাঁকুড়া, বর্ধমান এবং পাশের রাজ্য ঝাড়খণ্ডেরও বহু মানুষ আসে। এবছর ১০দিন ধরে পুজো চলবে। পুজো উপলক্ষ্যে মাঠে মেলা বসবে।
ক্লাবের সভাপতি মৃদুল সরকার বলেন, ২৭তম বর্ষে আমাদের পুজো মণ্ডপ নেপালের জানকী মন্দিরের আদলে তৈরি করা হচ্ছে। পুজোর বাজেট ১৭ লক্ষ টাকা। এই পুজোয় এলাকায় সমস্ত ধর্মের মানুষ শামিল হয়।
পুজো কমিটির সম্পাদক সঞ্জয় যাদব বলেন, পুজো উপলক্ষ্যে এবারও মেলা বসেছে। প্রতিদিন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। রক্তদান, চক্ষু ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবির করা হবে। মণ্ডপ দেখার ক্ষেত্রে কেউ যাতে সমস্যায় না পড়েন, তার জন্য সব রকম ব্যবস্থা থাকছে।
পুজো কমিটির কনভেনর বলেন, সরস্বতী ক্লাব এবং দাদার নামে তৈরি শশীভূষণ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সদস্যদের নিয়ে পুজো পরিচালনা করা হয়। আগামী ২৭ আগস্ট পুজোর উদ্বোধন হবে। ৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবস পালন ও রাতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পুজোর সমাপ্তি হবে। পুজোর ক’টা দিন আমরা খুবই আনন্দ করি।