নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: বর্ষাকাল এলেই জল যন্ত্রণা। রাস্তায় হাঁটু সমান জল। কোনও বাড়ির একতলা জলমগ্ন। তার উপর রয়েছে জঞ্জাল যন্ত্রণাও। সমস্যার সমাধান না হওয়ায় প্রবল ক্ষোভ দেখা দিয়েছে পানিহাটির অভিজাত এলাকা বলে পরিচিত এইচবি টাউনে।
নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: বর্ষাকাল এলেই জল যন্ত্রণা। রাস্তায় হাঁটু সমান জল। কোনও বাড়ির একতলা জলমগ্ন। তার উপর রয়েছে জঞ্জাল যন্ত্রণাও। সমস্যার সমাধান না হওয়ায় প্রবল ক্ষোভ দেখা দিয়েছে পানিহাটির অভিজাত এলাকা বলে পরিচিত এইচবি টাউনে।
সম্প্রতি পুরসভার চেয়ারম্যানকে সামনে পেয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করেছিলেন এলাকার বাসিন্দারা। অবশেষে জল জমার সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার সেচদপ্তর, পূর্তদপ্তর ও কেএমডিএ এলাকা পরিদর্শন করে। পূর্তদপ্তর ৩৬ কোটি টাকা খরচ করে আন্ডারগ্রাউন্ড ড্রেন তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পুরসভার বক্তব্য, এই কাজ শেষ হলে দীর্ঘদিনের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবে বিস্তীর্ণ এলাকা।
যদিও এই আশ্বাসে ভরসা পাচ্ছে না পানিহাটির বাসিন্দারা। তাঁদের বক্তব্য, ফি বছর জল যন্ত্রণা শুরু হলে নতুন নতুন আশ্বাস শোনা যায়। ভরা বর্ষায় কয়েক কোটি টাকা খরচ করে ড্রেন পরিষ্কারের নামে অর্থের অপচয় হয়েছে। সামনের বছর বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে ফের আশ্বাস দিয়ে মানুষের যন্ত্রণায় প্রলেপ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। জমা জল ও জঞ্জাল মিশে গতবছরের মতোই নরককুণ্ড তৈরি হয়েছে শহরজুড়ে।
জানা গিয়েছে, বৃষ্টি হলেই জলমগ্ন হয় পানিহাটির বিস্তীর্ণ এলাকা। এইচবি টাউন, অমরাবতী, আগরপাড়া, ঘোলা ইত্যাদি এলাকায় কোথাও এখনও হাঁটু সমান জল দাঁড়িয়ে আছে। বাড়ির মধ্যে খেলছে মাছ। জলে থইথই রাস্তা ভেঙে গিয়েছে। যাতায়াত করতে গিয়ে ঘটছে দুর্ঘটনা। ভয়াবহ পরিস্থিতি এইচবি টাউনের। এই এলাকায় চিকিৎসক, শিক্ষক, সরকারি কর্মী, ব্যবসায়ীদের বসবাস। সুশীলকৃষ্ণ বালিকা বিদ্যালয় এখানেই রয়েছে। সেখানে বহু ছাত্রী পড়াশোনা করে। গোটা এলাকা জলমগ্ন থাকায় প্রবল বিপাকে পড়েছে ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ। মঙ্গলবার এইচবি টাউন ও বিজয়পুর পরিদর্শনে যান প্রশাসনিক আধিকারিকরা। সিদ্ধান্ত হয়েছে, এই এলাকা থেকে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ আন্ডারগ্রাউন্ড ড্রেন তৈরি করবে পূর্তদপ্তর। নিকাশির জল নিয়ে যাওয়া হবে মুড়াগাছা পর্যন্ত। সেখানে কেএমডিএ ৫০ কোটি টাকা খরচ করে দু’টি পাম্পিং স্টেশন তৈরি করছে। তা দিয়ে জমা জল বের করা হবে। পুরসভার চেয়ারম্যান সোমনাথ দে বলেন, ‘আমাদের হাতে তো যাদু দণ্ড নেই। রাতারাতি চেয়ারে বসেই সব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। জঞ্জাল ফেলার জায়গা পাওয়া যাচ্ছিল না। নতুন জায়গায় বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। আগামী বছর এই সমস্যা থাকবে না। জমা জলের সমস্যা নতুন নয়। কিন্তু এবার মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের নির্দেশে সমস্ত দপ্তরের সমন্বয়ে জয়েন্ট ভিজিট হয়েছে। পূর্তদপ্তর এইচবি টাউন থেকে ৩৬ কোটি টাকা খরচ করে নতুন ড্রেন করবে। রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় আমরা ধীরে ধীরে পানিহাটিকে নতুন রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছি।’