সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: এবার শিলিগুড়ির রাস্তায় সুশীল সমাজ। সোমবার তাঁরা শহরের গান্ধী মূর্তির পাদদেশে জমায়েত করে গো বলয়ের সংস্কৃতি প্রত্যাখ্যানের আরজিতে লিফলেট বিলি করেন। বাংলা সংস্কৃতি, ঐতিহ্য অটুট রাখার বার্তা দেন। তাদের এমন ভূমিকার প্রশংসা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। পালটা সরব বিজেপি। এনিয়ে ‘বাণিজ্য নগরী’ শিলিগুড়ির ভোটের ময়দান সরগরম। প্রসঙ্গত, এর আগে ২০২১ সালে বাংলার বিদ্বজ্জনেরা ‘নো ভোট টু বিজেপি’র ডাক দিয়েছিলেন। বঙ্গের বুদ্ধিজীবী মহলের সিংহভাগই ওই ক্যাম্পেনে সরাসরি বিজেপিকে ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ছিলেন।
গো বলয়ের সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ রুখতে রবিবার সরব হয় সুশীল সমাজ। সেই দলে অধ্যাপক, শিক্ষক, চিকিৎসক, আইনজীবী, সমাজসেবী, পরিবেশকর্মী, সাহিত্যিক, লেখক, নাট্যকার, সাংবাদিক প্রমুখ রয়েছেন। ইতিমধ্যে তাঁরা কয়েক হাজার লিফলেট বিলি করেছেন। এদিন বেলা ১২টা নাগাদ শহরের কাছারি রোডে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে জমায়েত হন। সেখান থেকে তাঁরা পথচারীদের লিফলেট বিলি করেন। বেলা আড়াইটা পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলে। নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ এবিষয়ে খোঁজ খবর নেয়।
নাট্যকর্মী পার্থ মিত্র বলেন,এই শহরে গো বলয়ের রাজনৈতিক সংস্কৃতি আমদানি করার চেষ্টা চলছে। নির্বাচনি পোস্টার, ফ্লেক্স হিন্দিতে ছাপা হচ্ছে। গো বলয়ের নেতা-কর্মীদের দাপাদাপি বাড়ছে। বাংলার সংস্কৃতি ধ্বংস করার চেষ্টা চলছে। জাতপাত ও ধর্ম নিয়ে সুড়সুড়ি দেওয়া হচ্ছে। তাই গো বলয়ের সংস্কৃতি আটকানো, বাংলার কৃষ্টি, সংস্কৃতি বজায় রাখার আরজি নিয়েই রাস্তায় নেমেছি।
এসআইআর নিয়েও সুর সপ্তমে তুলেছে সুশীল সমাজ। ইতিমধ্যে সাহিত্যিক, লেখক, নাট্যকর্মী, চিকিৎসক, হোটেল ব্যবসায়ীরা নিজেদের নাম ও ছবি দিয়ে এসআইআর ইস্যুতে প্ল্যাকার্ড, ব্যানার, ফ্লেক্স শহরের বিভিন্ন মোড়ে সাঁটিয়েছেন। তাতে উল্লেখ রয়েছে-এসআইআর নিয়ে সন্তুষ্ট নই। বৈধ ভোটার বা সহ নাগরিকদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ায় উদ্বিগ্ন। হোটেল ব্যবসায়ী উজ্জ্বল ঘোষ বলেন, এসআইআর নিয়ে আপত্তি নেই। কিন্তু, স্বল্প সময়ে তাড়াহুড়ো করে এসআইআর করা হয়েছে। এতে প্রচুর বৈধ ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। এনিয়েই অসন্তুষ্ট, উদ্বিগ্ন।
ভোটযুদ্ধের ময়দানে এনিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। দার্জিলিং জেলা তৃণমূল কংগ্রেস নেতা (সমতল) সুপ্রকাশ রায় বলেন, শিলিগুড়ি সহ বাংলায় গো বলয়ের সংস্কৃতি কায়েম করতে চাইছে বিজেপি। এর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছি। এমন প্রেক্ষাপটে সুশীল সমাজের অবস্থান প্রশংসনীয়। তাঁদের আবেদন ভোটের ময়দানে প্রভাব ফেলবে বলে আশা করছি।
শিলিগুড়ি পুরসভার বিরোধী দলনেতা বিজেপির অমিত জৈন বলেন, ওই সুশীল সমাজের নেপথ্যে তৃণমূল ও সিপিএম রয়েছে। তাদের এই নাটক ভোটের ময়দানে প্রভাব ফেলবে না। সিপিএমের দার্জিলিং জেলা সম্পাদক সমন পাঠক বলেন, সুশীল সমাজের ওই কর্মসূচির সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। বিজেপির বক্তব্য ঠিক নয়।
সুশীল সমাজের পক্ষে নাট্যকর্মী পার্থ মিত্র বলেন, এই কর্মসূচির সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক নেই। আমরা কোনো দলের হয়েও কথা বলছি না। নির্দিষ্ট দলকে ভোট দেওয়ার আবেদনও করছি না। এখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোভাবাপন্ন মানুষ রয়েছেন। • শিলিগুড়ির গান্ধী মূর্তির পাদদেশে অবস্থান শিলিগুড়ির বিদ্বজ্জনেদের। - নিজস্ব চিত্র।