Bartaman Logo
৩০ আগস্ট, ২০২৬

দলিত খাড়্গেকে অপমান! মোদির পদক্ষেপ চান রাহুল

উত্তরাখণ্ডের হলদোয়ানিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের সভাস্থলের ‘শুদ্ধিকরণ’ বিতর্কে সরব রাহুল গান্ধী। এই ঘটনায় শনিবার সুবিচারের দাবিতে সুর চড়ালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা।

দলিত খাড়্গেকে অপমান! মোদির পদক্ষেপ চান রাহুল
  • ৩০ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: উত্তরাখণ্ডের হলদোয়ানিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের সভাস্থলের ‘শুদ্ধিকরণ’ বিতর্কে সরব রাহুল গান্ধী। এই ঘটনায় শনিবার সুবিচারের দাবিতে সুর চড়ালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা। সেইসঙ্গে দলিতদের দুর্দশার প্রসঙ্গ তুলে বিজেপি তথা মোদি সরকারকেও বিঁধলেন তিনি।  কাস্ট সেন্সাস ইস্যুতে রাহুল লাগাতার মোদি সরকার তথা প্রধানমন্ত্রীকে টার্গেট করেছিলেন। প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছিলেন মোদি সরকার কাস্ট সেন্সাসে নারাজ। কারণ, এই সরকার অনগ্রসর সম্প্রদায় বিরোধী। প্রাথমিকভাবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধানমন্ত্রী অথবা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা বলেছিলেন যে, রাহুল ও কংগ্রেস দেশের নাগরিকদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করতে চাইছেন । সেই কারণেই কাস্ট সেন্সাসের দাবি। কিন্তু রাহুলের আগ্রাসী আক্রমণের জেরে শেষ পর্যন্ত মোদি সরকার রাজি হয় কাস্ট সেন্সাস করতে। কিন্তু রাহুল অনগ্রসর বান্ধব ভাবমূর্তি নির্মাণে মরিয়া। তা‌ই সুযোগ পেয়ে আবার মোদি সরকারকে দলিত বিরোধী তকমা দিলেন তিনি। 

Advertisement

এদিন রাহুল দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যদি খাড়্গের প্রতি সুবিচার না করেন, যদি তাঁকে বিচার পাইয়ে না দেন, অপমানের বিহিত না করেন, তাহলে প্রমাণ হবে প্রধানমন্ত্রীর অনগ্রসর সম্প্রদায়ের প্রতি কোনও দায়বদ্ধতা নেই। রাহুল বলেন, সম্প্রতি হলদোয়ানিতে খাড়্গে সভা করে যাওয়ার পর সেই মঞ্চকে গঙ্গাজল দিয়ে শুদ্ধকরণ করে বিজেপি। এটাই হল মনুবাদী আরএসএসের যোগ্য শিষ্য বিজেপির মনোভাব। রাহুলের অভিযোগ, বিজেপির কারা ওই কাজ করেছে, সেটা সকলেই জানে। প্রকাশ্যে বিজেপি এখনও অস্পৃশ্যতার মতো ঘৃণ্য এক সংস্কারকে বাঁচিয়ে রেখে অপমান করছে দেশের কোটি কোটি দলিতের। আর মোদিজী এসব দেখেও নীরব কেন? মোদিজী এফআইআর করার নির্দেশ দিন। যতক্ষণ ওই দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হচ্ছে, আমরা লাগাতার এই প্রচার ও দাবি চালিয়ে যাব।
 উত্তরপ্রদেশের ভোট আগামী বছর। শুক্রবারই একটি সংস্থা তাদের জনমত সমীক্ষা প্রকাশ করে বলেছে, আজই যদি লোকসভা ভোট হয়, তাহলে বিজেপি এবং এনডিএ জোটের আসন সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু উত্তরপ্রদেশে ইন্ডিয়া জোট এবারও এগিয়ে থাকছে আসন সংখ্যার নিরিখে। ২৪ ঘন্টার মধ্যেই রাহুল দলিত ইস্যুতে মোদি সরকারকে চেপে ধরে বার্তা দিলেন, বিজেপির বিরুদ্ধে  অনগ্রসর বিরোধী প্রচার তিনি চালিয়ে যাবেন। উল্লেখ্য অখিলেশ যাদবও উত্তরপ্রদেশে পিডিএ জোটের সপক্ষে প্রচার করছেন। পি ডি এ অর্থাৎ পিছড়ে, দলিত, অল্পসংখ্যক। অনগ্রসর, দলিত এবং সংখ্যালঘু জোট।  আবার রাহুলও দিল্লিতে বিজেপিকে অনগ্রসর বিরোধী তকমা দেওয়ার নয়া প্রচারে ঝাঁপাচ্ছেন। সুতরাং অনগ্রসর ইস্যু আগামীদিনে ফের রাজনীতির ভরকেন্দ্র হতে চলেছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ