নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: আম্রুত প্রকল্পে বাড়ি বাড়ি পানীয় জলের সংযোগের কাজ দ্রুত শুরুর নির্দেশ জলপাইগুড়ির পুর প্রশাসক তথা সদরের মহকুমা শাসক মঈন আহমেদের। জলপাইগুড়ি শহরে ৩৭ হাজারের মতো হোল্ডিং রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ১৯ হাজার বাড়িতে জলের লাইনের সংযোগ দেওয়ার কথা। কিন্তু সাড়ে ১৩ হাজারের মতো বাড়িতে এখনও পর্যন্ত ওই সংযোগ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ, বরাত পাওয়া দু’টি ঠিকাদারি সংস্থার গাফিলতিতে এখনও প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বাড়িতে আম্রুত প্রকল্পে জলের সংযোগ দেওয়া বাকি। এনিয়ে বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, এ ব্যাপারে বারবার বলার পরও তৃণমূল পরিচালিত জলপাইগুড়ি পুরসভা কোনো উদ্যোগ নেয়নি। পুর প্রশাসকের দায়িত্ব পেতেই এ ব্যাপারে দ্রুত কাজ শেষের নির্দেশ দিয়েছেন মহকুমা শাসক।
মঙ্গলবার মহকুমা শাসক বলেন, আম্রুত প্রকল্পে প্রথম পর্যায়ে যে সাড়ে পাঁচ হাজার বাড়িতে পানীয় জলের সংযোগ দেওয়ার কাজ বাকি, দ্রুত তা সেরে ফেলতে চাইছি আমরা। এনিয়ে কাজের বরাত পাওয়া ঠিকাদারি সংস্থাকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদি তারা কাজ করতে না পারে, তাহলে নতুন করে টেন্ডার ডাকা হবে। পরের ধাপে ১৬ হাজার বাড়িতে পানীয় জলের সংযোগ দেওয়া হবে। পরিষেবায় নজর দেওয়ার পাশাপাশি কর্মীদের একাংশের ফাঁকিবাজি বন্ধ করতে কড়া দাওয়াই দিয়েছেন তিনি। জলপাইগুড়ি পুরসভায় দীর্ঘদিন অকেজো হয়ে পড়ে থাকা বায়োমেট্রিক মেশিন দ্রুত ঠিক করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সেইসঙ্গে ছুটি না নিয়েও অফিসে না আসায় বেশ কয়েকজন কর্মীকে ইতিমধ্যেই শোকজ করেছেন তিনি।
শহরের বেহাল রাস্তাঘাট নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারকে চিঠি লিখতে শুরু করেছেন পুর প্রশাসক। তিনি বলেন, শহরে কোথায় কী রাস্তাঘাট ভাঙাচোরা আছে, তা নিয়ে পুরদপ্তরে চিঠি লিখছি। আশাকরি, পুজোর আগে বেহাল রাস্তা সারিয়ে ফেলা সম্ভব হবে।
পরিষেবার পাশাপাশি তৃণমূল বোর্ডের আমলে অর্থনৈতিক সংকট একটা বড়ো সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। পুরসভার নিজস্ব আয় তলানিতে ঠেকায় একদিকে যেমন প্রতিমাসে সময়ে অস্থায়ী কর্মীদের বেতন দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না, তেমনই পেনশন পাচ্ছিলেন না অবসরপ্রাপ্ত পুরকর্মীরা। অবশ্য পুর প্রশাসক বলেন, পুরসভার নিজস্ব আয় বৃদ্ধির চেষ্টা চলছে। তাছাড়া রাজ্যের কাছ থেকে যা প্রাপ্য, সেটাও চলতি মাসেই চলে আসবে।