নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: মিড ডে মিলে পড়ুয়াদের পাতে পুষ্টিগুণ সম্পন্ন খাবার তুলে দিতে সম্প্রতি জেলার রাঁধুনিদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু খাবারের গুণগত মান? একাধিক সময় অবশ্য এনিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। সেক্ষেত্রে প্রশাসনিকভাবে অনেকগুলি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। ইতিমধ্যে বীরভূম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের তরফে জেলার প্রতিটা স্কুলে টেস্টিং রেজিস্টার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পড়ুয়াদের খাবার পরিবেশনের আগেই সেই খাবারের মান যাচাই করে রেজিস্টারে নথিভুক্ত করার নির্দেশ রয়েছে। সেইসঙ্গে খাবারের নমুনা ২৪ ঘণ্টার জন্য সংরক্ষণও করে রাখা হচ্ছে। নিয়ম করে জেলার প্রতিটা স্কুলে তা পালন করা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করতে এডুকেশন সুপারভাইজার সহ শিক্ষাবন্ধুরা নজরদারি চালান। এবিষয়ে সংসদের চেয়ারম্যান প্রলয় নায়েক বলেন, পড়ুয়াদের পুষ্টিগুণ সম্পন্ন খাবার পরিবেশন করা আমাদের দায়িত্ব। সেই খাবারের মান সঠিক রয়েছে কি না, তা নিয়মিত যাচাই করা হচ্ছে। সেইসঙ্গে প্রতিটা স্কুলেই খাবারের কিছুটা অংশ নমুনা হিসাবে ২৪ ঘণ্টার জন্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এছাড়াও প্রতিটা স্কুলের তরফেই খাবারের মান যাচাইয়ের ক্ষেত্রে টেস্টিং রেজিস্টার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সমস্ত প্রক্রিয়া ঠিকমতো হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতেও নিয়মিত নজরদারি চলছে।
একাধিক সময় মিড মে মিলের খাবারের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সমস্যা সমাধানে একাধিক পথ অবলম্বন করা হয়েছে ইতিমধ্যে। তারমধ্য অন্যতম টেস্টিং রেজিস্টার। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, পড়ুয়াদের জন্য খাবার তৈরি হওয়ার পর তা পর্যায়ক্রমে টেস্ট করা হচ্ছে। এই কাজের দায়িত্ব মূলত একজন শিক্ষক, রাঁধুনি ও অভিভাবকের উপর ন্যস্ত। মিড ডে মিলের খাবার তাঁরা প্রথমে পরখ করবেন। সেইসঙ্গে রেজিস্টারে তা লিপিবদ্ধও করা বাধ্যতামূলক। এছাড়াও খাবারের একটা অংশ নমুনা হিসাবে ২৪ ঘণ্টার জন্য সংরক্ষণ করা জরুরি। কোনও ক্ষেত্রে মিড ডে মিলের গুণগতমান নিয়ে প্রশ্ন উঠলে যাতে তা পরীক্ষা করা সম্ভব হয়।
বীরভূম জেলায় প্রায় ২৪০১টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। পড়ুয়ার সংখ্যাও যথেষ্ট। নিয়মিত তাদের জন্য খাবার প্রস্তুত হচ্ছে প্রতিটি স্কুলেই। অভিভাবক থেকে শুরু করে রাঁধুনি ও শিক্ষকেরা সেই খাবারের মান প্রাথমিকভাবে যাচাই করছেন। সেইসঙ্গে জেলাজুড়ে আরও কড়া নজরদারি চালাতে এডুকেশন সুপারভাইজার সহ শিক্ষাবন্ধু ও এসআইরা পরিদর্শন করেন। বিভিন্ন সময় সারপ্রাইজ ভিজিটের মাধ্যমে মিড ডে মিলের খাবার পরখ করে দেখেন তাঁরা। এছাড়াও রান্নাঘরের সাফাই সহ রাঁধুনিদের পোশাকের দিকেও নজর রাখা হয়। পরবর্তীতে সবটাই রিপোর্ট আকারে পদস্থ কর্তাদের নজরে আনা হয়।
গজালপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শ্যামল ঝা বলেন, নির্দেশ মোতাবেক খাবারের নমুনা সংরক্ষণ সহ টেস্টিং রেজিস্টারে নিয়মিত সমস্ত কিছু লিপিবদ্ধ করা হয়। সেইসঙ্গে স্থানীয় অভিভাবকদের ডেকে খাবারের মান যাচাই করা হয়। পরবর্তীতে মিড ডে মিলের খাবার পড়ুয়াদের পরিবেশন করা হয়।