নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সিঁথিতে সোনা লুট কাণ্ডে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত দুই দুষ্কৃতী ঘটনার আগে ‘টিপার’এর সঙ্গে দেখা করেছিল। ওই ‘টিপার’ সিঁথির ওই গয়না ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের ইউনিটেরই কেউ হতে পারে, এমন ইঙ্গিত মিলছে তদন্তে। তারই পরামর্শে, গত ২৯ অক্টোবর গয়না তৈরির ওই কারখানার সামনে হাজির হয়েছিল দুষ্কৃতীরা। সেই ‘টিপার’কে পুলিশ চিহ্নিত করতে পেরেছে বলে জানা যাচ্ছে। ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিটের গেটের সামনে সিসি ক্যামেরা যে খারাপ, সেই তথ্যও ‘অন্দর’ থেকেই পেয়েছিল দুষ্কৃতীরা। তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই সোনা লুটে যুক্ত দুই দুষ্কৃতীর নাম পরিচয় পেয়েছে পুলিশ। তাদের খোঁজে হুগলির বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হয় শুক্রবার রাতে। সোনা সহ যে স্কুটারটি নিয়ে পালিয়েছিল দুষ্কৃতীরা, বরানগরে সেটির হদিশ মিলেছে। একজনকে আটক করা হয়েছে।
২৯ অক্টোবর সিঁথি থানা এলাকার অপূর্ব কৃষ্ণ লেনে দু কেজি ৩৮০ গ্রাম সোনা লুট করে পালায় দুই দুষ্কৃতী। যে স্কুটারে করে সোনা আনা হয়েছিল, আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে সেটি সমেত পালায় তারা। তদন্তে নেমে অফিসাররা বুঝতে পারেন, এই ঘটনায় ভিতরের কেউ জড়িত রয়েছে। তা না হলে, কবে কোথায় কখন সোনা আসবে, সে খবর দুষ্কৃতীদের কাছে যাওয়া সম্ভব নয়। বড়বাজার এলাকার মজুতঘর থেকে যে কর্মী সোনা নিয়ে এসেছিলেন, তাঁকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাঁর সামনে বসানো হয় কারখানার অন্য কর্মীদের। সেখান থেকে তদন্তকারীরা চিহ্নিত করেছেন, ভিতর থেকে ঠিক কে লুটেরাদের খবর পাচার করেছিল। ওই কারখানা সহ এলাকায় থাকা একাধিক সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেন তদন্তকারীরা। সেটি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পান তদন্তকারীরা।
দেখা যায়, টিপার হিসেবে কাজ করা ব্যক্তি ঘটনার দিন দুই অপরিচিতের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ ধরে কথা বলছে। যে দুজনকে দেখা গিয়েছিল তাদের সঙ্গে ঘটনাস্থলে আসা দুই দুষ্কৃতীর ছবি মেলানো হয়। সেটি করতে গিয়ে অফিসাররা দেখেন, ছবি দুটি মিলে যাচ্ছে। সেখান থেকে তদন্তকারীরা নিশ্চিত হন, লুটের আগে ওই কারখানার কাছে এসে টিপারের সঙ্গে দেখা করেছিল দুষ্কৃতীরা।
তদন্তে উঠে আসছে, ওই দুই দুষ্কৃতী আগেও বেশ কয়েকবার ওই কারখানার সামনে এসেছে । সবকিছু দেখে নিয়ে পরিকল্পনামাফিক লুট করেছে। লুটের সময় কারখানার সামনের গেট বেছে নেওয়া হলো কেন? উত্তর খুঁজতে গিয়ে তদন্তকারীরা জেনেছেন, ওই গেটের সামনে সিসি ক্যামেরা খারাপ জানত দুষ্কৃতীরা। সেইজন্য ওই জায়গা বেছে লুট করা হয় সোনা। এমনকি বাইকের চাবি গাড়িতে লাগিয়ে রেখে দরজা খোলা হয় সেই তথ্য দুষ্কৃতীরা পেয়েছিল। যে কারণে বাইক সমেত সোনা লুট করে পালাতে তাদের সুবিধা হয়। তবে তদন্তকারীরা জানার চেষ্টা করছেন ঘটনার দিন স্কুটারের চাবি ইচ্ছাকৃতভাবে লাগিয়ে রাখা হয়েছিল কি না। সেটা জানতে গয়না কারখানার কর্মী সঞ্জিত কুমার দাস কে জেরা করছেন তদন্তকারীরা। দুই দুষ্কৃতী যে মোবাইল ফোনে টিপারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত তার নম্বর হাতে এসেছে তদন্তকারীদের। সেই সূত্রে দুজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এমনকি তাদের সঙ্গে টিপারের যোগের বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন অফিসাররা।