ঢাকা: বৃহস্পতিবারই বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়েছে। আর ঠিক একদিন পরেই ঢাকার ভরা রাস্তায় গুলিবিদ্ধ হলেন ‘জুলাই আন্দোলনে’র অন্যতম নেতা শরিফ ওসমান হাদি। শুক্রবার নামাজ শেষে রিকশয় চেপে প্রচারে যাওয়ার সময় ঢাকার বিজয়নগর এলাকায় তিন দুষ্কৃতী বাইকে চেপে এসে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। একটি গুলি তাঁর কানের কাছে বিদ্ধ হয়ে মস্তিষ্কে আটকে গিয়েছে। আপাতত ‘লাইফ সাপোর্টে’ রাখা হয়েছে। হাদির উপর হামলায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস। অভিযুক্ত সকলকে দ্রুত গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
গত বছর শেখ হাসিনা বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে উঠেছিলেন হাদি। হাসিনার দেশত্যাগের পর ইনকিলাব মঞ্চ নামে একটি সংগঠন তৈরি করেন তিনি। সম্প্রতি হাদি জানিয়েছিলেন, সাধারণ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়াই করবেন। এই ঘটনায় বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের দিকে আঙুল তুলেছেন জুলাই আন্দোলনের নেতাদের একাংশ। আবার, বিএনপির একাংশের দাবি, ঢাকা-৮ আসনে লড়াই করতে পারেন জামাত শিবিরের ছাত্র নেতা সাদিক কায়েম।
এদিকে, আগামী নির্বাচনকে বেআইনি আখ্যা দিয়েছে আওয়ামি লিগ। হাসিনার দল নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না বলে আগেই জানিয়েছে ইউনুস সরকার। আওয়ামি লিগের দাবি, নির্বাচন কমিশন যে পক্ষপাতদুষ্ট তা ফের একবার প্রমাণ হয়ে গেল। কমিশনকে কাজে লাগিয়ে ক্ষমতায় থাকতে চায় ইউনুসের অবৈধ সরকার। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে নিরপেক্ষ নির্বাচন হওয়া সম্ভব নয় বলেও জানিয়েছে তারা।