নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: প্রবেশপথ জুড়ে আবর্জনার স্তূপ, রাস্তার উপর গড়িয়ে পড়া নোংরা, অকেজো বৈদ্যুতিক চুল্লি, তালাবদ্ধ প্রতীক্ষালয় ও শৌচালয়, পানীয় জলের অপ্রতুল ব্যবস্থা। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থা ও পরিকাঠামোগত সমস্যায় জর্জরিত শিবপুর শ্মশানের হাল ফেরাতে উদ্যোগী হল প্রশাসন। হাওড়া শহরের বিভিন্ন শ্মশানঘাট ও গঙ্গার ঘাট সংস্কার, নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার শিবপুর শ্মশান ও সংলগ্ন গঙ্গার ঘাট পরিদর্শন করেন শিবপুরের বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ। তাঁর সঙ্গে ছিলেন হাওড়া পুরসভা, কেএমডিএ এবং সেচদপ্তরের আধিকারিকরা।
পরিদর্শনে গিয়ে শ্মশান চত্বরে একাধিক সমস্যার চিত্র উঠে আসে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শ্মশান সংলগ্ন ভ্যাটে মধ্য ও দক্ষিণ হাওড়ার প্রায় দশটি ওয়ার্ডের বর্জ্য এনে ফেলা হয়। নিয়মিত আবর্জনা অপসারণ না হওয়ায় তা উপচে রাস্তার উপর ছড়িয়ে পড়ে। ফলে মৃতদেহ নিয়ে আসা পরিবারগুলিকে অনেক সময় সেই নোংরা রাস্তা দিয়েই শ্মশানে প্রবেশ করতে হয়। বর্ষা কিংবা গরমের সময় শ্মশানযাত্রীদের সুবিধার জন্য তৈরি বাতানুকূল প্রতীক্ষালয় থাকলেও তা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। শৌচালয়েও তালা ঝুলছে বলে অভিযোগ। পানীয় জলের ব্যবস্থাও কার্যত অপ্রতুল। শ্মশানের ভিতরে গিয়েও একই ছবি ধরা পড়ে। দু’টি বৈদ্যুতিক চুল্লির মধ্যে একটি প্রায় এক বছর ধরে অকেজো অবস্থায় রয়েছে বলে জানা যায়। কাঠে শবদাহের স্থান, দাহকার্য শেষে গঙ্গায় স্নানের ঘাট, শৌচালয় সহ বিভিন্ন পরিষেবার বেহাল অবস্থা নজরে আসে। শ্মশান চত্বরের একটি অংশে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগও খতিয়ে দেখেন বিধায়ক।
স্থানীয় বাসিন্দারা শ্মশানের পাশের রাস্তায় ট্রাকের বেআইনি পার্কিং নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন। অভিযোগ, সংলগ্ন লোহার গুদামে মাল ওঠানামার কাজে আসা ভারী যানবাহন দিনের পর দিন রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকে। ফলে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে সমস্যা সৃষ্টি হয় এবং শ্মশানে আসা শোকাহত পরিবারগুলি ভোগান্তির শিকার হন। পরিদর্শনের পর রুদ্রনীল ঘোষ বলেন, ‘শিবপুর শ্মশানঘাটের বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। মানুষের শেষযাত্রার সঙ্গে জড়িত এমন একটি জায়গায় এই ধরনের অব্যবস্থা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। কোথায় কী সমস্যা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভ্যাট, বেআইনি পার্কিং, অকেজো পরিকাঠামো সহ সমস্ত বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি জানান, শুধু শিবপুর নয়, হাওড়া শহরের সমস্ত শ্মশানঘাটকে পর্যায়ক্রমে সংস্কার ও আধুনিকীকরণের আওতায় আনা হবে।
পাশাপাশি গঙ্গার ঘাটগুলির সংস্কারেও জোর দেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রের নমামি গঙ্গা প্রকল্পের প্রসঙ্গ তুলে রুদ্রনীল অভিযোগ করেন, পূর্বতন তৃণমূল সরকার সেই প্রকল্পের সুযোগ যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারেনি। আগামী দিনে গঙ্গার ঘাটগুলির উন্নয়নে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।