নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রায় সব শিল্পক্ষেত্রই এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগাচ্ছে বিশ্বজুড়ে। পরিষেবাক্ষেত্র হলেও, পর্যটনে তার প্রভাব কতটা? রবিবার বিশ্ব পর্যটন দিবস উদযাপনে পর্যটনে এআই ব্যবহারকে সামনে আনলেন এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা। অ্যাসোসিয়েশন অব টুরিজম সার্ভিস প্রোভাইডার্স অব বেঙ্গল এবং কেন্দ্রীয় পর্যটন মন্ত্রকের উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনায় উঠে আসে এই বিষয়টি।
এই ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ রিমঝিম রায় বলেন, পর্যটনে যেমন নতুন প্রজন্মের আগ্রহ বাড়ছে, তেমনই নতুন নতুন মাধ্যমের হাত ধরে তাঁরা টুর পরিকল্পনা করছেন। এখন বেড়াতে যাওয়ার আগে দীর্ঘ পরিকল্পনা করেন না অনেকেই। চটজলদি প্ল্যানে সংস্থাগুলির কাজে আসতে পারে এআই। তাঁর কথায়, যাঁরা পর্যটন বা হোটেল বা হোম স্টে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত, তাঁরা নিজেদের প্রচার করতে সহজেই কৃত্রিম মেধা ব্যবহার করতে পারেন। কনটেন্ট তৈরি, ভিডিয়ো বা অডিয়ো সহজেই তৈরি করা যায় কোনো বিশেষজ্ঞের পরামর্শ বা হস্তক্ষেপ ছাড়াই। এআই ব্যবহার করে বিজ্ঞাপন তৈরি করা যায় এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় তা ব্যবহার করা যায় অনায়াসে। নতুন প্রজন্মের কাছে তা আকর্ষণীয়ও বটে। যাঁরা প্রত্যন্ত অঞ্চলে থেকে বিদেশি পর্যটকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চান, তাঁরাও কৃত্রিম মেধা ব্যবহার করে তাঁদের সঙ্গে সর্বক্ষণ আলোচনা করতে পারেন। বুকিং, পেমেন্ট বা অন্যান্য বিষয়ে গ্রাহকের প্রশ্নের জবাব দেওয়া যায় এআই দিয়ে, যেখানে মানুষের সরাসরি জড়িত থাকার প্রশ্নই নেই। এমনকি গ্রাহক পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে বাংলা বা অন্য ভাষায় ফোন করলে, এআই তার সবরকমের জবাব যখন খুশি দেবে। গ্রাহক জানতেও পারবেন না, তিনি মানুষ নয়, কোনো প্রযুক্তির সঙ্গে কথা বলছেন।
সংগঠনের অন্যতম কর্তা সমর ঘোষ বলেন, আমরা পর্যটন শিল্পেও আধুনিকীকরণ চাই। প্রযুক্তি ছাড়া তা সম্ভব নয়। কোন পথে এগোলে আমরা আরও ভালোভাবে এগোতে পারি, তারই আলোচনা হয় এদিন।