নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: জঙ্গল ছেড়ে লোকালয়ে বাইসন বেরিয়ে লোকালয়ে চলে আসার ঘটনা কোচবিহার জেলায় এখন প্রায়শই ঘটছে। কোচবিহারের মধ্যে রয়েছে পাতলাখাওয়া জঙ্গল। সেই জঙ্গলে আবার যাতায়াত রয়েছে চিলাপাতা ও জলদাপাড়ার বাইসনদের। ফলে জঙ্গল থেকে বাইসন বেরিয়ে মানুষকে আক্রমণ করে জখম বা নিহত করার ঘটনাও ঘটছে। এই পরিস্থিতিতে বনদপ্তর পাতলাখাওয়ার জঙ্গলে ইলেক্ট্রিক ফেন্সিং দেওয়ার উদ্যোগ নিতে শুরু করেছে। ইলেক্ট্রিক ফেন্সিং দিলে আগামী দিনে জঙ্গল থেকে বাইসন লোকালয়ে চলে আসার ঘটনা কমানো সম্ভব হবে। পাতলাখাওয়াকে গন্ডারের আবাসস্থল হিসেবে গড়ে তোলার কথা রয়েছে। তার কাজও খুব ধীরে এগচ্ছে। কবে এখানে গন্ডার আনা সম্ভব হবে তা বনদপ্তরের কাছেও স্পষ্ট নয়। বাইসন রুখতে যদি ইলেক্ট্রিক ফেন্সিং লাগানো হয়, তাহলে কাজ অনেকটাই এগবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বনদপ্তরের কোচবিহারের ডিএফও অসিতাভ চট্টোপাধ্যায় বলেন, পাতলাখাওয়ার জঙ্গলে ইলেক্ট্রিক ফেন্সিং দেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে। এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলা হবে।
বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, পাতলাখাওয়ার জঙ্গলে প্রায় ৫০টি বাইসন রয়েছে। স্বাভাবিক নিয়ম অনুসারে এই বাইসনগুলি কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে জঙ্গলের মধ্যে ঘুরে বেড়ায়। আগের তুলনায় এদের সংখ্যাও অনেকটা বেড়েছে। পাশাপাশি চিলাপাতা ও জলদাপাড়া থেকেও বাইসনের দল নিয়মিত যাতায়াত করে। ফলে বাইসনের সংখ্যা বাড়ে-কমে।
এদিকে, আগের তুলনায় নদীর চর এলাকায় চাষের পরিমাণ অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। যাতায়াতের পথে বা জঙ্গল এলাকা থেকে বেরিয়ে এসে নদীর চর এলাকায় খাবার খেতে চলে আসে বাইসন। কোনও সময় এক থেকে তিনটি বাইসনও এভাবে বেরিয়ে আসে। নদী পেরোলে বা আশপাশের এলাকায় অনেক জায়গায় লোকালয় রয়েছে। সেই সব জায়গায় ঢুকে পড়লেই আতঙ্ক ছড়ায়। লোকালয়ে ঢুকে পড়া এইসব বাইসনদের বাগে আনতে বনদপ্তরকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়।