সংবাদদাতা, ঘাটাল: পূর্বতন সরকারের আমলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হলেও উদ্বোধনের পর থেকেই তালাবন্ধ রয়েছে দাসপুরের ফরিদপুরের গোল্ড হাব। রাজ্যে পালাবদলের পর এবার ওই হাব খোলার উদ্যোগ নিল প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধরা। দাসপুরের বিজেপি বিধায়ক তপন দত্ত বলেন, হাবটি খোলার বিষয়ে আমাদের একটি প্রশাসনিক বৈঠক হয়েছে। হাবটি যাতে খোলা যায়, তার জন্য চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আশাকরি পুজোর পরই ওই নতুন হাবে কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।
২০২০ সালের ৬ অক্টোবর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মেদিনীপুর সফরে এসে স্বর্ণশিল্পীদের সুবিধার্থে একটি আধুনিক গোল্ড হাব তৈরির কথা ঘোষণা করেছিলেন। সেইমতো ২০২৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি দাসপুরের ফরিদপুরে প্রকল্পটির শিলান্যাস করা হয়। সাততলা বিশিষ্ট এই আধুনিক হাবের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল ৭ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকা। তিনতলার কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পর ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ভার্চুয়ালি এই গোল্ড হাবের উদ্বোধন করেন। পরিচালনার দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয় শিল্পীদেরই হাতে। সেই সময় জানানো হয়েছিল, ১৯জন স্বর্ণশিল্পীকে নিয়ে ‘অলঙ্কার ইন্ডাস্ট্রিয়াল কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড’ নামে একটি সমবায় গঠিত হয়েছে। সোনার গয়না তৈরি এবং আমদানি-রপ্তানির যাবতীয় দায়িত্ব তাদেরই নেওয়ার কথা ছিল। সেইমতো ২০২৫ সালের ২২ আগস্ট সমবায়ের হাতে হাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তরও করা হয়।তবে, হস্তান্তরের কয়েক মাসের মধ্যেই এই হাবের উপযোগিতা নিয়ে বড়োসড়ো প্রশ্ন উঠে। স্বর্ণশিল্পীরা বলেন, মাত্র চার-ছ’টি রুম নিয়ে কখনোই একটি গোল্ড হাব তার পূর্ণতা পেতে পারে না। দাসপুরের বেশ কয়েক হাজার মানুষ ভিনরাজ্যে সোনার কাজ করেন, তাঁদের এই সামান্য কয়েকটি ঘরের মধ্যে এনে কাজ দেওয়া সম্পূর্ণ অবাস্তব একটি কল্পনা। তাছাড়া সেখানে কোটি কোটি টাকা মূল্যের সোনার কাজ হবে, সেখানে কোনো নিরাপত্তা নেই। এই অপর্যাপ্ত পরিকাঠামোর কারণেই চাবি দেওয়া অবস্থায় পড়ে রয়েছে ওই ভবন এবং সেখানে কোনো স্বর্ণশিল্পী বা ব্যবসায়ী আসতে চাইছেন না। মুম্বইয়ের মতো জায়গায় সোনার গয়না আমদানি এবং রপ্তানির যে বিশেষ সুবিধা বা পরিকাঠামো রয়েছে, দাসপুরে বর্তমানে তার ঘোর অভাব রয়েছে। এই ধরনের সুবিধা নিশ্চিত না হলে এখানে কোনো ব্যবসায়ী কাজ করতে আসবেন না। তপনবাবু বলেন, এছাড়াও হাবটি খোলার জন্য নিরাপত্তার প্রয়োজন আমরাও তা মনে করি। সেনিয়েও আমরা রাজ্য সরকারের কাছে দাবি তুলব। সেই সঙ্গে হাবে বেশ কিছু মেশিনপত্র দেওয়ার দাবি তোলা হয়েছে। রাজ্য সরকারের পলিসি অনুযায়ী হাবে মেশিন দেওয়ার নিয়ম নেই। তবুও বিষয়গুলি নিয়ে আমি রাজ্যস্তরে কথা বলব। তাই পুজোর আগে হাবটি খোলার সম্ভাবনা নেই। সব কিছু রেডি করে পুজোর পরই যাতে হাবটি রেডি করা যায়, তারজন্য আমরা সর্বতভাবে চেষ্টা করব। স্বর্ণশিল্পীদের বৃহত্তর স্বার্থে এবং হাবটিকে কার্যকরী করতে বড়ো স্বর্ণশিল্পীদের সংগঠনের সঙ্গেও আলোচনা করা হয়েছে, যারা বর্তমান পরিকাঠামোয় কাজ করা সম্ভব নয় বলে একমত পোষণ করেছেন।-নিজস্ব চিত্র