নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ: ধর্মীয় নিপীড়নের জন্য বাংলাদেশ থেকে এদেশে চলে আসা হিন্দু শরণার্থী বন্দীদের মুক্তি ও নাগরিকত্ব দিতে উদ্যোগ শুরু হল। রবিবার কালীপুজোয় রায়গঞ্জ জেলা সংশোধনাগার সরেজমিনে পরিদর্শনে এসে এমনই বার্তা দিলেন রাজ্যের আইন ও উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী বিরাজ বিশ্বাস। সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষের থেকে পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য সংগ্রহ করেন মন্ত্রী। সরাসরি বন্দীদের সঙ্গে কথা বলে জানার চেষ্টা করেন, কি পরিস্থিতিতে বন্দীরা একসময় এদেশে পালিয়ে এসেছিলেন? তাঁরা কি এদেশে থাকতে ইচ্ছুক?
গত ২৯ অক্টোবর রায়গঞ্জে এসে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জনসভায় ঘোষণা করেন, বাংলাদেশ থেকে যাঁরা প্রাণ আর ধর্ম বাঁচাতে এসেছেন, তাঁরা অনুপ্রবেশকারী নন। তাঁরা শরণার্থী। বাংলাদেশি সন্দেহে আটকদের মধ্যে যাতে কোনো হিন্দু শরণার্থী না থাকেন, সেটা প্রশাসনকে ভালোভাবে খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, জেলাশাসককে সামনে রেখে মন্ত্রী বিরাজ বিশ্বাসকে বলে গিয়েছি, একজনও বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু শরণার্থীরা যাতে জেলে না থাকে। এরজন্য প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ করতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তার এগারো দিনের মাথায় এদিন জেলাশাসক অভিজিৎ শেভালে ও রায়গঞ্জের পুলিশ সুপার কুলদীপ সোনাওয়ানেকে সঙ্গে নিয়ে রায়গঞ্জ জেলা সংশোধনাগার পরিদর্শন করেন মন্ত্রী বিরাজ বিশ্বাস।
প্রায় ঘন্টাখানেকের পরিদর্শন শেষে বিরাজ বলেন, ধর্মীয় নিপীড়নের জন্য বাংলাদেশ থেকে এদেশে চলে আসা হিন্দু শরণার্থী, যাঁরা সংশোধনাগারে বন্দী রয়েছেন, তাঁদের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মুক্তি ও সিএএর মাধ্যমে তাঁদের এদেশের নাগরিকত্বের দেওয়ার ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হবে। আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এ ব্যাপারে নির্দেশিকা দিয়েছেন। এদিন শরণার্থী বন্দীদের সঙ্গে কথা বলেছি। সব মিলিয়ে জেলায় ১৫-১৭ জন হবে শরণার্থী বন্দীদের সংখ্যা। বন্দীদের নামের তালিকা আমরা সংগ্রহ করলাম। পরবর্তীতে বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ করা হবে। • নিজস্ব চিত্র।



