Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত গাপ্পিমাছ ছাড়ার উদ্যোগ, ডেঙ্গু রুখতে আগাম প্রস্তুতি শুরু জেলা পরিষদ ও পুরসভাগুলির

বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত গাপ্পিমাছ ছাড়ার উদ্যোগ, ডেঙ্গু রুখতে আগাম প্রস্তুতি শুরু জেলা পরিষদ ও পুরসভাগুলির
  • ৭ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, সিউড়ি: ডেঙ্গু রুখতে আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে বীরভূম জেলা পরিষদ ও জেলার পুরসভাগুলি। এবছর বাড়ানো হচ্ছে গাপ্পিমাছের সংখ্যা। পাশাপাশি বিভিন্ন শহরে ব্যাপক মশার উপদ্রব রুখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে পুরসভাগুলির দাবি। তা সত্ত্বেও বেশকিছু এলাকায় মশার উপদ্রব একেবারেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না বলে সাধারণ মানুষের অভিযোগ। ফলে চলতি বছরে ডেঙ্গু বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছরে বীরভূম স্বাস্থ্যজেলায় ১৮জন এবং রামপুরহাট স্বাস্থ্যজেলায় ৩১জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাঁরা এখন সুস্থ রয়েছেন বলে স্বাস্থ্যকর্তাদের দাবি। বীরভূম স্বাস্থ্যজেলার তুলনায় রামপুরহাট স্বাস্থ্যজেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগে রয়েছেন স্বাস্থ্যকর্তারা। তাই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশার লার্ভা নষ্ট করতে প্রচুর পরিমাণ গাপ্পিমাছ ছাড়ার উদ্যোগ প্রতিবছরই নিচ্ছে জেলা পরিষদ। গত বছর জেলাজুড়ে প্রায় সাত লক্ষ গাপ্পিমাছ ছাড়া হয়েছিল শহর ও গ্রামাঞ্চলের নালাগুলিতে। এবার সেই সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য আবেদন করা হয়েছে রাজ্যের কাছে। অর্থাৎ এবার জেলাজুড়ে সাত লক্ষ কুড়ি হাজার গাপ্পিমাছ ছাড়া হতে পারে। সেই মাছ চাষ করা হবে জেলাতেই। অর্থাৎ গরমের মরশুম পড়তেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের প্রস্তুতি শুরু করেছে জেলা প্রশাসন।যদিও প্রশাসনিক কর্তাদের একাংশের মতে, গ্রামাঞ্চলে মানুষের সচেতনতার অভাবে এই রোগ বাড়ছে। নিয়মানুযায়ী প্রবাহিত নালার জলে গাপ্পিমাছ ছাড়া হয়। কিন্তু বেশকিছু গ্রামে নিকাশি নালাগুলি অপরিষ্কার থাকার কারণে নালা দিয়ে জল যাতায়াতে সমস্যা হয়। ফলে সেখানে গাপ্পিমাছ ছাড়া হলেও সেই মাছ মারা যাচ্ছে এবং মশার লার্ভা নিধনে কোনও কাজে লাগছে না। শুধু তাই নয়, বাড়ির আশপাশে জমা জল পরিষ্কারের জন্য সচেতন করা হচ্ছে বাসিন্দাদের। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে তা করা হচ্ছে না। ফলে জমা জলে মশার লার্ভা জন্ম নিচ্ছে। এদিকে বিষয়গুলি খতিয়ে দেখার জন্য গ্রাম ও পুরসভা এলাকায় বিশেষ টিম নজর রাখছে। কিন্তু সূত্রের খবর, এই সব ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণকারী টিমের সদস্যদের একাংশকে ডেঙ্গুর বদলে অন্য কাজে ব্যবহার করছেন ব্লক ও পঞ্চায়েতের কর্তাদের একাংশ।

Advertisement

প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এবছর গাপ্পিমাছের সংখ্যাও বাড়ানো হবে। পাশাপাশি ব্লিচিং পাউডার, ওষুধ ইত্যাদি স্প্রে করা হচ্ছে। এলাকার সাফাইয়ের দিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। 
জেলা সদর সিউড়ি, বোলপুর, দুবরাজপুর সহ একাধিক শহরে মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে বলে বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ। সিউড়ি শহরে বিভিন্ন ওয়ার্ডে মশার উৎপাতে নাজেহাল অবস্থা। মশা নিয়ন্ত্রণে পুরসভা বিভিন্ন ওষুধ স্প্রে করার কথা বললেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন রূপ। সিউড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় সব রকমের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ