সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে সুপার স্পেশালিটি ব্লকে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা পরিষেবা চালুর উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। কেন্দ্রের টাকায় ঝাঁ চকচকে বহুতল ভবন, অত্যাধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম পাওয়ার পরও উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সুপার স্পেশালিটি ব্লক পূর্ণাঙ্গরূপে চালু হয়নি। এজন্য বিগত তৃণমূল সরকারের উদাসীনতাকেই দায়ী করেছেন বিজেপি সাংসদ ডাঃ জয়ন্ত রায়।
বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্যভবরের একটি বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি দল হাসপাতালের সুপার স্পেশালিটি ব্লক পরিদর্শন করে পরিকাঠামো ও চিকিৎসা পরিষেবার বর্তমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে। প্রতিনিধি দলের সদস্য ও বাঙ্গুর নিউরো ইন্সটিটিউটের প্রধান চিকিৎসক ডাঃ শুভাশিস ঘোষ জানান, কলকাতায় রোগী রেফার কমিয়ে উত্তরবঙ্গেই উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। সেই উদ্দেশ্যে এখানে সুপার স্পেশালিটি ব্লক চালুর ক্ষেত্রে কী কী ঘাটতি রয়েছে তা পর্যালোচনা করে স্বাস্থ্যদপ্তরে রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে।
হাসপাতালের অতিরিক্ত সুপার ডাঃ নন্দন বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, দু’জন কার্ডিও থোরাসিক ভাসকুলার সার্জন থাকলেও প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোর অভাবে এখনও পূর্ণাঙ্গ পরিষেবা চালু করা সম্ভব হয়নি। এছাড়াও চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর ঘাটতি রয়েছে।
এই সুপার স্পেশালিটি ব্লক তৈরি হয়েছিল কার্ডিওলজি বিভাগে ২০, ডায়ালাইসিস ওয়ার্ডে ১৫, নেফ্রোতে ২২, প্লাস্টিক সার্জারিতে ২০, পেডিয়াট্রিককে ২২, আইসিসিইউ বিভাগে ১০টি বেডের প্রস্তাব নিয়ে। চারতলায় থাকবে ছয়টি অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার। থাকবে বার্ন ওয়ার্ড। এক তলায় থাকবে ২১টি ওপিডি। পাশাপাশি সিটি স্ক্যান, এমআরআই, অত্যাধুনিক প্যাথলজিকাল ল্যাব, এক্স-রে সব উন্নত পরিষেবা এখান থেকে পাবেন সর্বস্তরের মানুষ। এই সুপার স্পেশালিটি ব্লক পূর্ণাঙ্গরূপে চালু হলে গরিব ও সাধারণ মানুষকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আর নার্সিংহোমে যেতে হবে না।
অভিযোগ, বিগত তৃণমূল সরকার চুক্তিমতো প্রয়োজনীয় ডাক্তার, নার্স দেয়নি এই সুপার স্পেশালিটি ব্লক চালু করার জন্য। দীর্ঘদিন বহুতল এই ঝাঁ চকচকে ভবন ফেলে রাখা হয়। বিতর্ক উঠতেই প্রথমে ছ’টি বিভাগের ওপিডি চালু করা হয়। অনেক পরে কার্ডিওলজি, ইউরোলজি ইনডোরের সঙ্গে কিছু সাধারণ বিভাগে এখানে সরিয়ে আনা হয়। কিন্তু প্রস্তাব মতো সুপার স্পেশালিটি পরিষেবা চালু করেনি বিগত তৃণমূল সরকার।
এদিন স্বাস্থ্যদপ্তরের প্রতিনিধিদল পরিদর্শনের পর সুপার স্পেশালিটি ব্লক দ্রুত পূর্ণাঙ্গরূপে চালুর সম্ভাবনা জোরালো হল।