নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: সর্বঘটে কাঁঠালি কলা নয়, এ হল সব বাড়িতে কাঁঠালি কলা। অন্তত এমনটাই পরিকল্পনা রাজ্যের উদ্যানপালন দপ্তরের। এই উদ্যোগকে সফল করতে এই প্রথম কাঁঠালি কলার টিস্যু কালচার করে চারা তৈরি করা হয়েছে। অক্টোবর মাসে হুগলি জেলায় নতুন করে আট হাজার চারাগাছ বসানো হবে। জেলায় কাঁঠালি কলার চাহিদা থাকলেও সেই পরিমাণ উৎপাদন হয় না। আবার কলাগাছ থেকে তৈরি করা গাছের কারণে ফলন ও ফলের মান ভালো হচ্ছিল না। সেই সব সমস্যার সমাধান খুঁজতেই উন্নতমানের কাঁঠালি কলার চারা নিখরচায় বিলি করে চাষ বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে হুগলি জেলা উদ্যানপালন দপ্তর।
এর অবশ্য আরও একটি উদ্দেশ্য আছে। বিদেশি কলা (জি-৯) যা বাংলায় সিঙ্গাপুরী কলা নামে পরিচিত, তার চাষকে টক্কর দেওয়া। বলা যায়, সেখানেও বাংলার নিজস্ব প্রজাতিকে ধরে রাখা ও উন্নত করার লক্ষ্য নিয়ে চলতে চাইছে রাজ্য সরকার। উদ্যানপালন দপ্তরের কর্তাদের দাবি, বাঙালির মজ্জায় মজ্জায় কাঁঠালি কলা রয়ে গিয়েছে। পুজো-অর্চনায় কাঁঠালি কলা ছাড়া অন্য কোনও কলা কার্যত ব্যবহার হয় না। সিঙ্গাপুরীর দাপটে বাঙালির ঘরের কলা তাই কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল। রাজ্যের উদ্যানপালন দপ্তরের মন্ত্রী অরূপ রায় বলেন, বাঙালির কাঁঠালি কলার ‘নবজাগরণ’-এর লক্ষ্যে কোমর বেঁধেছি আমরা। টিস্যু কালচারের মাধ্যমে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ করা হয়েছে। হুগলি জেলা উদ্যানপালন দপ্তরের আধিকারিক শুভদীপ নাথ বলেন, কাঁঠালি কলার টিস্যু কালচার একটি বেনজির উদ্যোগ। বাংলার নিজস্ব কলাকে এবার আম বাঙালির ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া যাবে। ইতিমধ্যেই চাষি মহলে সাড়া পড়েছে। আমরা উন্নতমানের আট হাজার টিস্যু কালচারের গাছ নিতে চলেছি। পরিস্থিতি যা, তাতে আগামী বছর এই সংখ্যা দ্বিগুণ করতে হবে। অক্টোবরে ওই নতুন চারা রোপণ করা হবে।
কাঁঠালি কলাকে ঘিরে প্রবাদ বাক্য তৈরি হওয়ায় এর থেকেই স্পষ্ট যে, বাংলার সমাজ জীবনের সঙ্গে ওতোপ্রোতভাবে জড়িত এই কলা। কিন্তু সময়ের দাপটে উন্নত জাতের বিদেশি কলার উপস্থিতিতে বাঙালির নিজস্ব কলা মান হারাচ্ছিল। মূলত, চারা তৈরির পুরনো পদ্ধতির কারণেই আকার থেকে ফলন, স্বাদ থেকে দর্শনধারী হওয়ার যোগ্যতা কমছিল কাঁঠালির। সুদর্শন, সুঠাম সিঙ্গাপুরীর তুলনায় গায়ে দাগ ধরে যাওয়া, আকারে ছোট কাঁঠালি কলা কেবলমাত্র টিকে রয়েছে পুজোর আসরেই। উদ্যানপালন দপ্তরের কর্তাদের দাবি, গাছ থেকে তৈরি হওয়া চারায় ফলের গুণমান ধরে রাখা কঠিন। এতদিন কাঁঠালি কলার চারা তৈরির প্রশ্নে কোনও বদল আসেনি। তাতেই পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে। এবার টিস্যু কালচারের মাধ্যমে উন্নতমানের গাছ থেকে তৈরি হয়েছে উন্নততর চারা। অতএব, এখন কাঁঠালিকে ঘিরে তৈরি হওয়া প্রবাদকে বাস্তবে তুলে ধরাই উদ্দেশ্য দপ্তরের কর্তাদের।