সংবাদদাতা, কাঁথি: পূর্ব মেদিনীপুর জেলার উপকূল এলাকায় দেড় কোটি ম্যানগ্রোভ সহ দু’কোটি গাছ লাগানো হবে। উপকূল এলাকায় ভূমিক্ষয় ও ভাঙন রোধে যা বিশেষ কার্যকরী হবে। গোটা উপকূলজুড়ে ম্যানগ্রোভ রোপণের মধ্য দিয়ে বিশেষ সুরক্ষা বলয় তৈরি করা হবে। বৃহস্পতিবার রামনগরের তাজপুর সমুদ্রসৈকতে বৃক্ষরোপণের মধ্য দিয়ে তার সূচনা হল। এদিন তাজপুরের বনবিভাগের বাংলো সংলগ্ন এলাকায় বৃক্ষরোপণের মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচির সূচনা করেন বনমন্ত্রী মনোজ ওঁরাও। এই উপলক্ষ্যে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উপস্থিত ছিলেন সেচমন্ত্রী অরূপকুমার দাস, রামনগরের বিধায়ক চন্দ্রশেখর মণ্ডল, জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার সহ বিভাগীয় আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানে একটি গাছ মায়ের নামে কর্মসূচির অঙ্গ হিসাবে স্থানীয় জলধা হরিজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের হাতে একটি করে নারকেল গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বনমন্ত্রী বলেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পরিকল্পনামতো সারা রাজ্যে ১০কোটি ম্যানগ্রোভ গাছ লাগানো হবে। তারমধ্যে পূর্ব মেদিনীপুরের উপকূলে দু’কোটি লাগানো হবে। মন্ত্রী বলেন, উপকূল এলাকায় বনদপ্তর সহ সরকারি জায়গা দখল করে অবৈধ নির্মাণ হচ্ছে বলে খবর আসছে। বিভিন্ন জায়গায় বেআইনিভাবে হোটেল, রিসর্ট গড়ে উঠেছে। আমরা ইতিমধ্যেই এব্যাপারে নজরদারি শুরু করেছি। অবৈধ নির্মাণ কোনোমতেই বরদাস্ত করবে না এই সরকার। কড়া পদক্ষেপ করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী আগেই এটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন। বিধায়ক চন্দ্রশেখর বলেন, জেলায় ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছ রোপণ করার জন্য দীঘা থেকে নন্দীগ্রাম ৮৩১একর জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছে। খড়্গপুর আইআইটির সহযোগিতায় বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে এই কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রথম বছর ৭৩একর জায়গা বেছে নেওয়া হয়েছে। ধাপে ধাপে এই কাজ হবে। দু’কোটির মধ্যে দেড় কোটি ম্যানগ্রোভ লাগানো হবে। তাতে মোট ২২টি প্রজাতির ম্যানগ্রোভ রয়েছে। বাকি ৫০লক্ষ ঝাউ সহ বিভিন্ন গাছ লাগানো হবে।-নিজস্ব চিত্র