নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: দীর্ঘ বিলম্বের পর অবশেষে কি তবে চালু হতে চলেছে শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংক এবং এসএনসিইউ? শুক্রবার স্বাস্থ্য ভবন থেকে একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল পর্যবেক্ষণে আসার পর এই সম্ভাবনাই মাথাচাড়া দিয়েছে। সেই প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন স্বাস্থ্যদপ্তরের অন্যতম শীর্ষপদস্থ কর্তা, জয়েন্ট ডিরেক্টর অব হেলথ সার্ভিসেস বিজয়প্রসাদ মুখোপাধ্যায়। এছাড়াও সেই প্রতিনিধি দলে ছিলেন নদীয়া জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক রঞ্জিত দাস সহ জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের কর্তারা।
ব্লকের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতাল। লক্ষাধিক মানুষ ওতোপ্রতভাবে জড়িত এই হাসপাতালের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উপর। কিন্তু এই নির্ভরশীলতার মাঝেই অন্যতম বড় খামতি ছিল নিজস্ব ব্লাড ব্যাংক না থাকা। শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ব্লাড ব্যাংক না থাকার কারণে দূর দূরান্তে গিয়ে রক্ত সংগ্রহ করতে হতো রোগী পরিজনদের। নিকটবর্তী ব্লাড ব্যাংক বলতে রানাঘাট মহকুমা হাসপাতাল, কৃষ্ণনগর অথবা নবদ্বীপ। রাত বিরাতে দুর্ঘটনার কারনে আসা রোগীকে রক্ত দিতে হলে রীতিমতো বেগ পেতে হতো। এই সমস্যা সমাধানেই শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিজস্ব ব্লাড ব্যাংক তৈরি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সিদ্ধান্তের পর থেকেই জোরকদমে চলছিল তার কাজ। ২০২৫ সালের শুরুতেই সেই ব্লাড ব্যাংক চালু হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে হয়নি, বিভিন্ন কারণে পিছিয়ে যায়। কিন্তু সম্প্রতি সেই সম্ভাবনা আবার উজ্জ্বল হয়েছে। বিশেষত শুক্রবার রাজ্যস্তরের শীর্ষপদস্থ কর্তার পরিদর্শনের পর। সূত্রের খবর, পরিকাঠামগত বেশ কিছু উপদেশ এবং নির্দেশ দিয়ে গিয়েছেন স্বাস্থ্যকর্তা। বেশ কিছু জিনিস বদল করার আবেদন করা হয়েছে। যেহেতু এই পরিদর্শনে ইঞ্জিনিয়াররাও ছিলেন, তাই তাদেরও বিষয়টি বুঝিয়ে দেওয়া হয়। সমস্ত কাজ হয়ে যাওয়ার পরেই ব্লাড ব্যাংক চালু হয়ে যাবে। কবে নাগাদ চালু হতে পারে? বিষয়টি নিয়ে শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালের সুপার তারক বর্মন বলেন, ছোটখাটো কিছু কাজ করতে হবে। তবে পরিস্থিতি যা, তাতে আশা করাই যায় এই বছর ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই চালু করে দেওয়া যাবে ব্লাড ব্যাংক।
এদিকে, একইভাবে শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে চালু হওয়ার কথা এসএনসিইউ। যদিও এই বিশেষ পরিকাঠামোর কাজ এখনও বেশ কিছুটা বাকি রয়েছে। তুমি যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সেই কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্যকর্তারা আশা ব্যক্ত করে বলেন, এসএনসিইউ পরিষেবা চালু করার চেষ্টা চলছে শীঘ্রই। বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালে সুপার তারকবাবু বলেন, স্বাস্থ্যকর্তারা সন্তুষ্ট। এসএনসিইউ চালু করার চেষ্টাও আমরা করছি। ওই পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে হয়তো আর কিছুটা সময় লাগবে। তবে দ্রুতগতিতে কাজ চলছে। যদি সব ঠিকঠাক মিটে যায় তাহলে ব্লাড ব্যাংকের সঙ্গেও চালু করা হতে পারে।