Bartaman Logo
২৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পেনশন যোজনায় পরিযায়ী শ্রমিক, খেতমজুর, শালপাতা সংগ্ৰহকারীদের যুক্ত করার উদ্যোগ

ঝাড়গ্রামে প্রধানমন্ত্রী শ্রমযোগী মান ধন যোজনায় শ্রমিকদের পেনশনের সুবিধা। ৬০ বছর হলে মাসে ৩ হাজার টাকা পাবেন। বিস্তারিত পড়ুন।

পেনশন যোজনায় পরিযায়ী শ্রমিক, খেতমজুর, শালপাতা সংগ্ৰহকারীদের যুক্ত করার উদ্যোগ
  • ২৬ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রাম আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা জেলা। জেলায় চাষবাস কম হয়। শিল্প কারখানা সেভাবে গড়ে ওঠেনি। জেলারঅধিকাংশ আদিবাসী ও জনজাতি গোষ্ঠীর মানুষ শালপাতা সংগ্ৰহ ও দিনমজুরের কাজে যুক্ত।পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে অনেকে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিয়েছেন। রাজ্যে প্রথমবার চালু হতে চলা ‘প্রধানমন্ত্রী শ্রমযোগী মান ধন যোজনা’ প্রকল্পের আওতায় তাঁরা পেনশনের সুবিধা পাবেন। শিবিরে নাম নথিভুক্ত করার পাশাপাশি অনলাইনেও আবেদন করা যাবে। 

Advertisement

অসংগঠিত ক্ষেত্রে সকল শ্রমিকদের জন্য এতদিন অবসরকালীন পেনশনের ব্যবস্থা ছিল না। সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে পরিবহন ও নির্মাণ শ্রমিকরা শুধু অবসরকালীন পেনশনের সুবিধা পেতেন। প্রধানমন্ত্রী শ্রমযোগী মান ধন যোজনা প্রকল্পে শালপাতা,কাঠ সংগ্ৰহকারী, দিনমজুর, খেতমজুর, গৃহ পরিচারিকা সহ অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকরা পেনশনের সুবিধা পাবেন। প্রকল্পে ১৮ থেকে ৪০ বয়সী ও যাদের মাসিক আয় ১৫ হাজার টাকার কম তাঁরা জনকল্যাণ শিবিরে এসে নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন।প্রকল্পে প্রতি মাসে ৫৫ টাকা থেকে ২০০ টাকা জমা করা যাবে। শ্রমিকদের জমা করা অর্থের সম পরিমাণ অর্থ পেনশন অ্যাকাউন্টে কেন্দ্রীয় সরকার জমা করবে।  উপভোক্তার ৬০ বছর বয়স হলে প্রতি মাসে ন্যূনতম ৩ হাজার টাকা মিলবে। অরণ্য অধ্যুষিত আদিবাসী জনজাতি গোষ্ঠীর বড় সংখ্যক মানুষ অসংগঠিত ক্ষেত্রে যুক্ত। জেলার প্রতি ব্লকে ১৫ ,১৬ ও ১৭ জুন জনকল্যাণ শিবির শুরু হয়েছে। শিবিরে জেলার অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের আনাই জেলা শ্রম দপ্তরের বড় চ্যালেঞ্জ।ভিনরাজ্যে কাজ করতে যাওয়া পরিযায়ী শ্রমিকরা অল্প সময়ের মধ্যে আসতে পারবেন না। বাড়ির অন্য সদস্যরা অবশ্য শিবিরেএসে আবেদন করতে পারবেন।পাশাপাশি অনলাইনেও নাম নথিভুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। জনকল্যাণ শিবিরের ঘোষণা হলে গ্ৰামীন এলাকায় প্রকল্প নিয়ে সেভাবে প্রচার হয়নি। গুজরাতে কর্মরত বেলপাহাড়ীর বাসিন্দা শুভম মাহাতফোনে এদিন বলেন,কেন্দ্রের পেনশন প্রকল্পের কথা জানা নেই।বাড়িতে বয়স্ক বাবা মারয়েছেন । তাদের পক্ষেও শিবিরে গিয়ে আবেদন করা সম্ভব নয়। অনলাইন মাধ্যমে আবেদন করার চেষ্টা করবো। অপর পরিযায়ী শ্রমিক বিশ্বজিৎ মাহাত বলেন, বেলপাহাড়ী, গিধনীর বহু যুবক গুজরাতে নানাপ্রান্তে নির্মাণ শ্রমিকের কাজে যুক্ত।প্রকল্পের বিষয়ে কিছুই জানিনা। শিবির যদি পরে হয় ও আমাদের আগাম জানানো হয় তাহলে যাওয়া সম্ভব হবে। বেলপাহাড়ীর ভুলাভেদা এলাকার বাসিন্দা সঞ্জয় মুর্মু বলেন, জঙ্গলে শুকনো কাঠ, শালপাতা সংগ্ৰহ করে আমাদের জীবিকা চলে। পেনশন দেওয়া নিয়ে গ্ৰামে কোনো প্রচার হয়নি। শিবির কোথায় হবে সে সম্বন্ধে কিছুই জানি না। জঙ্গলমহল স্বরাজ মোর্চার কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অশোক মাহাত বলেন, কেন্দ্রে সরকারের এই প্রকল্পের জেলার অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকরা উপকৃত হবেন। আগেও নানা প্রকল্পের সুবিধা পিছিয়ে থাকা জেলার সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়নি। আদিবাসী, জনজাতি গোষ্ঠীর মানুষের কাছে প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দিতে বিশেষ উদ্যোগ প্রয়োজন। পরিযায়ী শ্রমিক,জঙ্গলের ওপর যারা  নির্ভরশীল তাদের কাছে পৌঁছাতে হবে। নানা প্রকল্প চালু হয়েছে।কিন্তু দেখা গিয়েছে, জেলার আদিবাসী জনজাতি গোষ্ঠীর মানুষ প্রকল্পের সুযোগ থাকে বঞ্চিত হয়েছেন। জেলা শ্রমদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, প্রকল্প নিয়ে প্রচার চলছে। জেলার সকল স্তরের অসংগঠিত শ্রমিকদের প্রকল্পের আওতায় আনা হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ