


সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: সবুজ বিপ্লবের অন্যতম সহযোদ্ধা পদ্মভূষণপ্রাপ্ত কৃষিবিজ্ঞানী বশীশ্বর সেনের নামাঙ্কিত মঞ্চ এবার বিষ্ণুপুরে তৈরি হচ্ছে। আচার্য জগদীশচন্দ্র বসুর ছাত্র তথা সহযোদ্ধা বশীশ্বর সেনের নামে বিষ্ণুপুর মহকুমা প্রশাসনের তরফে পোড়ামাটির হাটের কাছে একটি মঞ্চ তৈরি করা হচ্ছে। শহরে অন্যান্য অনেক মনিষীর নামে রাস্তা ও ফলক থাকলেও বশীশ্বর সেন কার্যত উপেক্ষিত ছিলেন। এনিয়ে সমাজমাধ্যমে লেখালেখিও হয়। অবশেষে বিষ্ণুপুরের ভূমিপুত্র বশীশ্বর সেনকে মর্যাদা দেওয়ায় শহরের নাগরিকরা খুশি হয়েছেন।
বিষ্ণুপুরের মহকুমা শাসক প্রসেনজিৎ ঘোষ বলেন, পোড়ামাটির হাট সংলগ্ন চৌরাস্তার সামনে বশীশ্বর সেনের নামে একটি মঞ্চ তৈরি করা হচ্ছে। বিখ্যাত কৃষিবিজ্ঞানীর একটি প্রতিকৃতিও সেখানে বসানো হয়েছে। মঞ্চের সামনে বসার জায়গা সহ নানা উপকরণে সাজিয়ে তোলা হবে।
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পোড়ামাটির হাট সংলগ্ন চৌরাস্তার ধারে একটি ফাঁকা জায়গা ছিল। ওই জায়গাটি ক্রমশ বেদখল হয়ে যাচ্ছিল। পরবর্তীকালে মহকুমা প্রশাসনের তরফে ওই জায়গায় একটি উদ্যান গড়ার সিদ্ধান্ত হয়। বিশেষ করে ওই রাস্তায় প্রতিদিন বহু প্রাতঃভ্রমণকারী যাতায়াত করেন। অনেক সময় তাঁরা পোড়ামাটির হাটের গাছের তলায় বিশ্রাম নেন। তাঁদের কথা মাথায় রেখে ওই জায়গাটিকে ওয়াকিং পার্ক হিসাবে তৈরির পরিকল্পনা হয়। সেই মতো গার্ডওয়াল দিয়ে জায়গাটিকে সমতল করা হয়। বসার জায়গার পাশাপাশি একটি মঞ্চ তৈরির কাজ শুরু হয়। এমনকি, সেখানে একটি সূর্যঘড়ি বসানো হয়। সম্প্রতি ওই মঞ্চ বিষ্ণুপুরের ভূমিপুত্র বিখ্যাত কৃষিবিজ্ঞানী বশীশ্বর সেনের নামে সিদ্ধান্ত হয়। সেই মতো বিজ্ঞানীর একটি মূর্তি তৈরি করা হয়েছে। অন্যান্য উপকরণ দিয়ে সাজানোর কাজ চলছে।
কৃষিবিজ্ঞানী বশীশ্বর সেনের জন্ম বিষ্ণুপুর শহরে। তাঁর পিতা ছিলেন রামেশ্বর সেন এবং মাতা প্রসন্নময়ী দেবী। বশীশ্বর সেন কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে বিএসসি পাশ করেন। আচার্য জগদীশচন্দ্র বসুর অত্যন্ত প্রিয় ছাত্র বশীশ্বর সেন একসময় বিজ্ঞান গবেষণায় তাঁরই সহযোগী হয়ে কাজ করতে শুরু করেন। এছাড়াও পরবর্তীকালে গবেষণার কাজে তিনি লণ্ডন, আমেরিকা সহ বিভিন্ন দেশে যান। ১৯২৪ সালে দেশে ফেরার পর স্বাধীনভাবে গবেষণা শুরু করেন। বাগবাজারের বোসপাড়া লেনে ছোট রান্নাঘরে গবেষণার কাজ করেন। ইতিমধ্যে তিনি স্বামী বিবেকানন্দের ভাবধারায় প্রভাবিত হন। তাই তাঁর গবেষণাগারের নাম রাখেন বিবেকানন্দ ল্যাবরেটরি। ১৯৪৩ সালে বাংলায় পঞ্চাশের মন্বন্তর দেখা দেয়। ওই সময় উদ্ভিদ কোষের গবেষণার অভিমুখ পরিবর্তন করেন। কৃষি ও খাদ্যশস্যের উৎপাদনশীলতার উপর জোর দেন। উদ্ভিদ প্রজনন বিশেষ করে ভুট্টা, জোয়ার, বাজরা এবং পেঁয়াজের শংকর প্রজাতির বীজ আবিষ্কার করেন। আর এতেই ফলন বৃদ্ধি হয়। তাঁর ওই আবিষ্কারের ফলে ভারতে সবুজ বিপ্লবের সূচনা হয়। ১৯৫৭ সালে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মভূষণ পুরস্কারে ভূষিত করে। এরকম একজন বিজ্ঞানীর জন্ম বিষ্ণুপুর শহরে। জন্মভূমিতে দীর্ঘদিন উপেক্ষিত থাকলেও মহকুমা প্রশাসন স্মৃতি রক্ষার্থে তাঁর নামে মঞ্চ স্থাপন করছে। এতে নাগরিকরা ভীষণ খুশি হয়েছে।