নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: সংস্কারের অভাবে আরামবাগ মহকুমার কানা দ্বারকেশ্বর ও ভোমরা খাল জায়গায় জায়গায় মজে গিয়েছে। ফলে মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টির জল নামার গতি কমেছে। বৃষ্টি হলে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় জল জমে থাকছে। সম্প্রতি সেচমন্ত্রী এসে খাল সংস্কারের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তারপরই সেচদপ্তর খাল থেকে কচুরিপানা সরাতে উদ্যোগী হয়েছে। ইতিমধ্যেই কানা দ্বারকেশ্বর খালের পানা সরাতে টেন্ডার হয়েছে। প্রাথমিক কাজও শুরু হয়েছিল। তবে বৃষ্টির জেরে তা থমকে যায়।
সেচদপ্তরের হুগলির এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার দেবেন্দ্র সিংহ বলেন, বিভিন্ন খাল সংস্কারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তার আগে খালে জমে থাকা কচুরিপানা সাফাই চলছে।
আরামবাগ পুর এলাকার মধ্য দিয়েই গিয়েছে কানা দ্বারকেশ্বর খাল। বসন্তপুর এলাকায় গিয়ে দেখা গেল, খালের বিস্তীর্ণ অংশ কচুরিপানায় ভরে গিয়েছে। ফলে জল নামার গতিও কমেছে। সেচদপ্তর জানিয়েছে, খালে পানা জমে থাকায় এলাকায় পতঙ্গবাহিত নানা রোগের উপদ্রবও শুরু হয়। সেজন্য বর্ষা মিটলে পুজোর আগেই কচুরিপানা তুলে নেওয়া হবে। আরামবাগে কানা দ্বারকেশ্বর ও খানাকুলের ভোমরা খাল সংস্কার হবে। কয়েকলক্ষ টাকা ব্যয়ে কানা দ্বারকেশ্বরের পানা সরানো শুরু হয়েছে।
জুন মাস থেকেই দক্ষিণবঙ্গজুড়ে ক্রমাগত বৃষ্টি হচ্ছে। তার জেরে আরামবাগ মহকুমার বিস্তীর্ণ নিচু এলাকায় জল জমে যায়। এখনও খানাকুলের দু’টি ব্লকের নিচু এলাকায় জল জমে রয়েছে। সম্প্রতি রাজ্যের সেচমন্ত্রী মানসরঞ্জন ভুঁইয়া জল জমে থাকার সমস্যা নিয়ে পুরশুড়ায় বিডিও অফিসে বৈঠক করেন। তিনি বলেন, এবার বাঁধ ভেঙে বন্যা কোথাও হয়নি। তবে বৃষ্টির জল জমে রয়েছে। ডিভিসি নিয়মিত জল ছাড়তে থাকায় সেই জল নদী দিয়ে নামছে না। সেইসঙ্গে মহকুমার নানা জায়গায় খাল মজে রয়েছে। সেগুলি সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
খানাকুল-২ এর বিডিও মহম্মদ জাকারিয়া বলেন, অনেকদিন ধরেই নিচু এলাকায় জল জমে রয়েছে। সেই জল বেরোতে সময় লাগছে। তাই খাল সংস্কারের দাবি জানিয়ে তালিকা পাঠানো হয়েছে।
আরামবাগ পুরসভার চেয়ারম্যান সমীর ভাণ্ডারী বলেন, পুর এলাকা দিয়েই কানা দ্বারকেশ্বর খাল গিয়েছে। শহরের কিছু অংশের নিকাশিনালার জল ওই খালে গিয়ে পড়ে। সেচদপ্তর খালটি পরিষ্কার করলে শহরের জলনিকাশিও গতি পাবে।